১০ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:৫২ পিএম

সংবিধানে স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

সংবিধানে স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ভোট ও কথা বলাসহ নানা অধিকার নিয়ে কথা হলেও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে কেবল গরু, ছাগল মোটাতাজাকরণ দিয়ে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে পুষ্টির মন্ত্রণালয় হিসেবেও দেখবেন। কারণ মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। অ্যানিমেলকে অসুস্থ্য রাখলে মানুষও সুস্থ থাকবে না। আবার অপুষ্টির ঘটনা আমিষ না খাওয়ার জন্যও ঘটছে।

সংবিধানে স্পষ্টভাবে জনগণের স্বাস্থ্যের অধিকারের কথা বলা হয়নি উল্লেখ করে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ভোট ও কথা বলাসহ নানা অধিকার নিয়ে কথা হলেও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আলোচনায় নেই। ফলে সংবিধানে জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ে আহত অনেক তরুণের ১২-১৩টি অ্যান্টিবায়েটিক রেজিস্ট্যান্স ছিলো, যা ভয়াবহ। কারণ কৃষিতে প্রচুর কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। প্রাণীর ফিডে অ্যান্টিবায়েটিক ব্যবহার হচ্ছে। আমরা আসলে স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের অধিকার চাই।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত সরকার স্বস্থ্যের চেয়ে রাজস্বের দিকে বেশি জোর দিয়েছে। বর্তমানে আমরা স্বাস্থ্যের অধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করছি। স্বাস্থ্য খাতের জন্য মৌলিককিছু পরিবর্তন করা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরকে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিটি ও সংবিধান সংস্কার কমিশন কাছে প্রস্তাব প্রেরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সল বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য সেবা কতোটুকু পাবো সেটা স্পষ্ট করতে হবে। একইসঙ্গে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে যাতে সহজেই মানুষ যেতে পারে এবং সেখানে যাতে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা পাওয়া যায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার গণগতমান, স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে যেকোনো রোগের ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকা জরুরি। পাশপাশি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, দেশে মেগা প্রকল্পকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় সেভাবে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে যাতে কেউ অর্থকষ্টে না ভোগে সেটি রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসায় যদি সরকার যথাযথভাবে ব্যয় না করে তাহলে জনগণ বেসরকারি চিকিৎসা বেছে নিবে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যাবে। ইমার্জেন্সি কেয়ারে ব্যাপক বিনিয়োগ ও অর্থায়নের প্রয়োজন। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা বিনামূল্যে করতে হবে। এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছাবে না।

নারীপক্ষের প্রকল্প পরিচালক সামিয়া আফরিন বলেন, দেশে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে শোষণ ও বৈষম্য রয়েছে এবং অর্থায়নেও ঘাটতি রয়েছে। আইন-নীতিমালাতেও নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। নারীর প্রতি অবহেলার কারণে তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। সরকারকে দেশের নারীদের চিকিৎসা সর্বপরি মানবাধিকারভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা জনস্বাস্থ্য নিয়ে বেশকিছু সুপারিশ দেন। সুপারিশগুলো হলো—মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বাস্থ্য সেবাকে স্পষ্টভাবে সাংবিধানে লিপিবদ্ধ করা, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের অংশীজনের অংশগ্রহণে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ এবং প্রত্যেকের দায় ও কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা ও নির্ণয় করা, বৈষম্যহীন ও বিনামূল্যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করা ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করা; দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে এসে সরকারের সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সাংসদদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রোগ প্রতিরোধ, সীমিতকরণে অধিকার ও মর্যদার ভিত্তিতে নাগরিক, মিডিয়া, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগিদের সম্পৃক্ত করা।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) পরিচালক সীমাদাস সীমু, জনস্বাস্থ্য গবেষক ও সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা, পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক গবেষণা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক