০৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০২ পিএম

প্রতি ৪১ প্রসবে একটি শিশু মৃত, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রতি ৪১ প্রসবে একটি শিশু মৃত, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে বছরে ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতি ৪১ জন শিশুজন্মের ক্ষেত্রে একজন মৃত শিশু প্রসবের ঘটনা ঘটেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। সম্প্রতি ইউনাইটেড নেশনস ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মর্টালিটি এস্টিমেশনের (ইউএন-আইজিএমই) প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মা ও নবজাতকের যত্নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকে অগ্রগতি অর্জিত হলেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে মৃত সন্তান প্রসবের রেকর্ড বাড়ছে। প্রতিবেদনে এই ক্ষেত্রে অবিলম্বে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

চাইল্ড মর্টালিটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এক লাখেরও বেশি শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিনের আগেই মারা গেছে। এসব মৃত্যুর প্রায় দুই তৃতীয়াংশই হয়েছে শিশুর বয়স ২৮ দিন হওয়ার মধ্যেই। যদিও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্পর্কিত লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রতি বছর অতিরিক্ত ২৮ হাজার নবজাতককে বাঁচাতে হবে, যা মাতৃ ও নবজাতকের উন্নত যত্নের জরুরি প্রয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি রিপ্রেজেনটেটিভ ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেন, ‘অপ্রতিরোধ্য জটিলতাযেমন অপরিণত জন্ম, সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, সেপসিস ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণের জটিলতায় বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখেরও বেশি নবজাতক মারা যায়, যা তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লাখো শিশু ও মাকে বাঁচাতে পারি, যদি আমরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে আরো বিনিয়োগ করি, সব পর্যায়ে ধাত্রী মাসহ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে পারি এবং তাদের সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারিযাতে প্রতিটি নবজাতক একটি নিরাপদ হাতে জন্মগ্রহণ করতে পারে।’

আন্দ্রিয়ান আরো বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিসেফ মাতৃ ও শিশুর মৃত্যু রোধে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, ‘মৃত শিশুর জন্ম ও প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জন্য একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ বিগত দশকগুলোতে মাতৃ স্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তারপরেও মানসম্মত ও সময়োচিত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে। এই প্রবণতা বদলে দেওয়া এবং মর্মান্তিক ক্ষতি বন্ধে আমাদের অবশ্যই এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গর্ভকালীন ও সন্তান প্রসবকালীন সেবা বিষয়ে ডব্লিউএইচওর পরামর্শ এবং এর লেবার কেয়ার গাইড ও গ্লোবাল স্ট্রটেজি ফর উইমেন’স, চিলড্রেন’স অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট’স হেলথে সরকার ও অংশীদারদের জন্য এ বিষয়ে স্পষ্ট এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক করণীয় সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। এসডিজি অর্জনের জন্য আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি আছে। তাই মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নততর করতে আমাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।’

জামশিদ বলেন, ‘ইউনিসেফের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ডব্লিউএইচও প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু ও মৃত শিশুর জন্মের অবসানের লক্ষ্যে অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। সরকারের জোরালো অঙ্গীকার, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় টেকসই বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এই বেদনাদায়ক ক্ষতি প্রতিরোধ এবং প্রতিটি শিশুর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।’

ইউনিসেফের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে নবজাতকের মৃত্যু ও মৃত সন্তান প্রসবের উচ্চহারের পেছনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন৩০ শতাংশ শিশু ঘরে জন্ম হয়, আকারে ছোট ও অসুস্থ নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা এবং দক্ষ সেবাদাতা বা ধাত্রীর ঘাটতি।

এছাড়াও মা ও নবজাতকের অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে ২৪/৭ মানসম্পন্ন সেবার অভাব, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে প্রসবের পর অপর্যাপ্ত সেবা এবং অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি খাত, যার ফলে এসফেকশিয়া (জন্মকালীন শ্বাসরুদ্ধতা), অপরিণত বয়স এবং সংক্রমণজনিত প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে।

এসআই/এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : শিশু মৃত্যু
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক