১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৩:১৭ পিএম
হলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি শিক্ষার্থীদের 

ঢামেকে মদ্যপ শিক্ষার্থীর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সহপাঠীদের মারার হুমকি

ঢামেকে মদ্যপ শিক্ষার্থীর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সহপাঠীদের মারার হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) দেশীয় অস্ত্র হাতে এক মদ্যপ শিক্ষার্থীর ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের কক্ষে মারতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ৯ মার্চ গভীর রাতে ড. ফজলে রাব্বি হলে এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ঢামেক কে-৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইজাজ আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো তারাবি শেষ করে নাস্তা করে আমরা সবাই নিজ নিজ রুমে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় জানতে পারলাম আমাদের ব্যাচের সাফওয়ান (রোল ৯৭) নামে এক শিক্ষার্থী মাতাল অবস্থায় দেশীয় অস্ত্র হাতে আমাদের ব্যাচের বিভিন্ন ছেলের রুমে যাচ্ছে এবং তাদেরকে মারার হুমকি দিচ্ছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সবাই রুমের দরজা বন্ধ করে রাখি। এর কিছুক্ষণ পরেই আমার রুমের সামনে আসে এবং দরজার উপর সজোরে আঘাত করতে থাকে এবং আমার এক রুমমেট আরমানের নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তার চিৎকারে আশপাশের রুম থেকে আমার বন্ধুরা বের হলে তাদেরকেও রড দিয়ে ধাওয়া করে সে। এ সময় বিভিন্ন কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা বের হলে সাফওয়ান সেখান থেকে পালিয়ে যায়।’

ইজাজ আহমেদ জানান, পরে সবাই মিলে তার রুমে অনুসন্ধান করে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং মদের বোতলসহ অন্যান্য নেশা সামগ্রী পান।

ইজাজের প্রশ্ন, কারো কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার কে নিতো? এর শেষই বা কোথায়?

এদিকে ডা. ফজলে রাব্বি হলের ছাত্রাবাসে এ রকম ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গত ১১ মার্চ এ সংক্রান্ত কয়েকটি দাবিতে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল আলমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। এগুলো হলো—  

১. ড. ফজলে রাব্বি হলে মাদক নিষিদ্ধকরণ ও মাদকসহ কাউকে পাওয়া তাকে হল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। 
২. হলে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে হবে। 
৩. হলের অবস্থানরতদের প্রতি বছর একবার ডোপ টেস্ট করতে হবে। কেউ ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে তাকে হল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
৪. যে সব ব্লকে সিসিটিডি ক্যামেরা নেই সেই সব ব্লকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে।
৫. ডা. ফজলে রাব্বি হলে সকল ধরনের সিপারেট বিক্রয় ও প্রকাশ্য ধূমপান সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে।

ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কামরুল আলম আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনেছি। ভিডিও ফুটেজ, ছবিও এসেছে। এজন্য দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে। তারা রিপোর্ট দেবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পদক্ষেপ নেবো।’

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। ইতিমধ্যে তার বাবা-মাকে জানানো হয়েছে। তাকে আপাতত হলে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত