১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০১:৪৪ পিএম

‘স্বাস্থ্যসেবা নিরাপদ ও কার্যকর করতে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা অপরিহার্য’ 

‘স্বাস্থ্যসেবা নিরাপদ ও কার্যকর করতে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা অপরিহার্য’ 
বিএসএমএমইউর সেন্ট্রাল সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা, রোগীর চাহিদা ও সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমন্বয়ে সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়াই প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে ‘প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার মূলনীতি: গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের সেতুবন্ধন’ শীর্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। 

অধ্যাপক শাহিনুল আলম বলেন, রোগী ও জনগণের স্বার্থে ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা অপরিহার্য। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসায় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য প্রমাণিত গবেষণা, চিকিৎসা সংক্রান্ত অধ্যয়ন (ক্লিনিক্যাল স্টাডি) ও অভিজ্ঞতা একত্রিত করেই যথাযথ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয় বলে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা যদি গাইডলাইন অনুসরণ করে ব্যবস্থাপত্র লিখেন, রোগীর ওষুধ সরবরাহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তাহলে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমবে এবং রোগীরাও যথাযথ চিকিৎসা পেয়ে আরোগ্যলাভ করবেন।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, চিকিৎসকদের অবশ্যই গাইডলাইন অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া উচিত। মানসম্পন্ন গাইডলাইন না থাকলে প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে গাইডলাইন তৈরি করে সে অনুযায়ী রোগীদেরকে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। প্রেসক্রিপশনে আনরেজিস্ট্রার্ড প্রোডাক্ট বা এ জাতীয় কিছু লেখা উচিত না।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্রুত পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও কার্যকর, নিরাপদ ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা একটি অপরিহার্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজকের সেমিনারের আলোচনা চিকিৎসকদের জন্য গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সঠিক সমন্বয় সাধনে অবদান রাখবে।

প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা না করলে বহির্বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিএসএমএমইউ ভিসি।

অনুষ্ঠানে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম মোস্তফা জামান এভিডেন্স-ভিত্তিক মেডিসিনের মৌলিক নীতিগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং দেখান কীভাবে নতুন চিকিৎসা গবেষণার প্রয়োগ রোগীদের নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করতে সাহায্য করে।

ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আবদুস শাকুর বলেন, চিকিৎসা গবেষণা এবং তার বাস্তব প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা-ভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সেমিনার বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

অধ্যাপক ডা. মো. আবদুস শাকুর বাস্তব ক্ষেত্রের উদাহরণ ও গবেষণা-ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির সফল প্রয়োগ তুলে ধরেন, যা চিকিৎসার মানোন্নয়ন ও রোগীদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবে আহতদের সুচিকিৎসায় বিএসএমএমইউতে অত্যাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশনের সূচনা নিয়েও কথা বলেন।

সেমিনারে আলোচকরা জানান, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা, রোগীর চাহিদা ও সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল একত্রিত করে সর্বোত্তম চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা উন্নত করে না, বরং স্বাস্থ্যসেবার মান ও রোগীর সুস্থতার হারও বৃদ্ধি করে। সঠিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে শুধুমাত্র রোগ নিরাময় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব। চিকিৎসকদের জন্য গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করা এখন সময়ের দাবি। এই উদ্যোগ চিকিৎসা পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে। 

সেমিনারে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার ইতিহাস, তাৎপর্য, চিকিৎসা গবেষণার ভূমিকা ও এর প্রয়োগ, রোগীর স্বাস্থ্যসেবায় গবেষণার ফল কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, নীতিনির্ধারণ ও চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভূমিকাসহ নানা বিষয় আলোচিত হয়।

সেমিনারের মাধ্যমে গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রগতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিএসএমএমইউ। সেমিনারটি উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা ও চিকিৎসকরা গবেষণা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ উন্নতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিএসএমএমইউর সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. এম মোস্তফা জামান ও ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আবদুস শাকুর। সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহাবুব মোরশেদ মামুন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত