ভিশন আই হাসপাতালে আহত দুজনের চোখে কর্নিয়া সংযোজন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চব্বিশের গণঅভ্যুথানে আহত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত দুইজনের চোখে কর্নিয়া সংযোজন করেছে ভিশন আই হাসপাতাল। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের চোখে এ কর্নিয়া সংযোজন করা হয় বলে হাসপাতালের সাংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনে আহত চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমের বিষয়ে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবে অসংখ্য ছাত্র-জনতা চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন মাত্রায় দৃষ্টি হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়েছেন। কারো কারো ক্ষেত্রে চোখের জটিল রেটিনা ও কর্নিয়া ক্ষতের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। ভিশন আই হাসপাতাল তাদের মধ্যে ৭৪ জনের অপারেশন করেছে।
ভিশন আই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চক্ষু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৪ জনের সঙ্গে হাসপাতালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আট জন রোগী এ রকম পাওয়া গিয়েছে, যাদের চোখের রেটিনার ক্ষত সেরে ওঠার পর কর্নিয়া সংযোজন করতে পারলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে। আট জনের মধ্যে তরিকুল ইসলাম এবং পারভীনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্নিয়া সংযোজন করাহয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে কর্নিয়া দুষ্প্রাপ্য। বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কর্নিয়ার ব্যবস্থ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।
চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ফেডারেশন অব ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (ফিমা সেভ ভিশন, ফিমা) পরিচালক পাকিস্তানের ইন্তেজার হোসেনের মধ্যস্থতায় এবং শ্রীলঙ্কার পুত্তালামের কুয়েত হাসপাতালের সহযোগিতায় শ্রীলঙ্কা আই ডোনেশন সোসাইটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি হাফিজুর রহমান এই দুজনের কর্নিয়া আনার ব্যয় নির্বাহ করেন। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ প্রটোকল পার করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি কর্নিয়া হাসপাতালে পৌঁছায়। তরিকুল ইসলামের ডান চোখ এবং পারভীনের বাম চোখে কর্নিয়া সংযোজনের পাশাপাশি লেন্স সংযোজন করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অপারেশনটি সম্পন্ন করেন কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মাসদুল হাসান। সহযোগিতা করেন কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. আবির বিন সাজ্জ। অপারেশনের ব্যয় (কর্নিয়া ব্যতিত) বহন করছে ভিশন আই হাসপাতাল। রোগীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও সার্বিক বিষয় তত্ত্বাবধান করেন ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা।
তিনি বলেন, ‘গত ১৮ জুলাই থেকে নিরবচ্ছিন্ন নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আহতদের ৭৪ জনের অপারেশন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা আমরা দিতে পেরেছি। কর্নিয়া ও রেটিনার চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক চিকিৎসা। চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি এই রোগীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য আমাদের তাদের পাশে থাকা দরকার।
কর্নিয়া ও রেটিনার চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি এই রোগীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্যও সবাইকে রোগিদের পাশে থেকে কাজ করর আহ্বান জানানোহয় বিজ্ঞপ্তিটিতে।
টিআই/এমইউ