০৪ জানুয়ারী, ২০২৫ ০৭:৫৩ পিএম

‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসের রোগী রোগ সম্পর্কে জানেন না’

‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসের রোগী রোগ সম্পর্কে জানেন না’
অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসের রোগী রোগ সম্পর্কে জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন বারডেম একাডেমি পরিচালক ও বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান।

সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও গবেষণা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসের রোগী তাঁদের রোগ সম্পর্কে জানেন না। এই রোগ প্রায়ই তখন ধরা পড়ে যখন এটি গুরুতর জটিলতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, চীনের ‘দ্য কুইং স্টাডি’, আমেরিকার ‘ডিপিপি স্টাডি’, ফিনল্যান্ডের ‘ডিপিএস প্রকল্প’ এবং ভারতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্যোগ দেখিয়েছে যে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে ৫০-৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, ‘কীভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাচ্ছে। মানুষ এখন দীর্ঘ সময় ধরে মুঠোফোন, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকে। এতে চোখ ও হার্টের ওপর চাপ বাড়ে। বিপরীতে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ওজন ও মেদ বৃদ্ধির সমস্যা বাড়ছে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।’

তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো ঝুঁকি কমানো। যে ইনসুলিনের উৎপাদনপ্রক্রিয়া জন্মের সময় থেকেই শুরু হয়, তা সঠিকভাবে কার্যকর হতে হলে মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। গর্ভাবস্থায় মায়ের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী ধাপে ডায়াবেটিস ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্কুলপর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ডায়াবেটিস সচেতনতা বাড়ানো, পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাঁদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও শারীরিক পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। যাঁরা ইতোমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে যাতে জটিলতা সৃষ্টি না হয়। সেই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একত্রে কাজ করি, তবে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে একটি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সুস্থ জীবনযাত্রা, সামাজিক উদ্যোগ এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ডায়াবেটিস পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।’

এসএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডায়াবেটিস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক