শহীদ পরিবারের সদস্যদের ডা. তাসনিম জারার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২৪ এর গণ্যঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা। আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘যারা শহীদ পরিবারের সদস্য আছেন, তারা ভীষণ একটা ট্রমার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। এই ট্রমার পরবর্তীতে যে কষ্ট ও শোক এইটা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। একেক পরিবারের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। সেই কষ্ট ও শোক আপনারা সামলানো কঠিন হলে আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশনের সাথে যোগাযোগ করবেন।’
তিনি আরো বলেন, যাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সাপোর্ট প্রয়োজন হয়, জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশন সে ব্যবস্থা করবে। মেডিকেল টিমের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশনের ১৬০০০ নম্বরে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যোগাযোগ করবেন। তাহলে আমাদের মেডিকেল টিম আপনার যে কোনো ধরনের চিকিৎসা দিবে।
এ সময় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিভিন্ন লক্ষণ উল্লেখ করেন ডা. তাসনিম জারা। বলেন, ‘কি কি লক্ষণ থাকলে বুঝবেন, আপনার মনের অবস্থা ভালো নেই। যদি দেখেন, আপনার বেশিরভাগ সময় মন খারাপ থাকছে এবং এটা প্রায় প্রতিদিন হচ্ছে ...। স্বাভাবিকভাবে আমাদের মন খারাপ হলে কিছুক্ষণ পর ভালো হয়ে যায়। আবার এমনও হতে পারে যে, প্রায় প্রতিদিন বা দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, যেই কাজগুলো করতে আগে ভালো লাগতো, আনন্দ পেতেন, কিন্তু এখন আগের মতো আনন্দ পান না অথবা অতিরিক্ত অপরাবোধ করছেন ...। তখন বুঝবেন আপনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
এ সময় অভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অনেক বাবা-মা আছেন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। ভাবছেন, ছেলেকে কেন আন্দোলনে যেতে দিলাম, কেন জোর করে বাসায় রেখে দিলাম না। বারবার এ রকম অপরাধবোধ হলে, নিজেকে নিয়ে হতাশ লাগলে, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মেজাজ খিটাখিটে, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারলে, শারীরিক ও মানসিক সমস্যা, ঘুমের সমস্যা হলে শহীদ ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
ডা. তাসনিম জারা বলেন, কারও অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগতে পারে, যেই কাজ আগে অনায়াসে করে ফেলতেন, তা করতে এখন বেশি সময় লাগছে। ঘটনাগুলো আপনারা ফটোতে দেখেছেন বা ভিডিও ফুটেজে দেখেছেন বা পত্রিকায় দেখেছেন—সেগুলো আপনার চোখের সামনে বারবার আসতে দেখছেন এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, এসব লক্ষণ আপনাদের মাঝে দেখা দিলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।’
এ সময় আহতদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আলোচিত এ চিকিৎসক বলেন, যার যে ধরনের সাপোর্ট দরকার আমরা করে যাবো। এই লক্ষণগুলো অনেকের মাঝে আস্তে আস্তে প্রকাশ পায়। আবার কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরেও প্রকাশ পেতে পারে।
এসআই/এমইউ