উপজেলায় চিকিৎসক সংকট, ৪৪তম বিসিএসে পদসংখ্যা বাড়ানোর দাবি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের বিভিন্ন উপজেলায় চিকিৎসক সংকট থাকার ৪৪তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ৪৪তম বিসিএসে চাকরি প্রত্যাশী চিকিৎসকরা।
আজ শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে চাকরি প্রত্যাশী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকরা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট চরমে রয়েছে। সংকট কাটাতে প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ করা। এ ক্ষেত্রে খুবই দ্রুত শুরু হবে বিসিএস ৪৪তম বিসিএসের ভাইবা। ৪৪তম বিসিএসে চিকিৎসকদের জন্য সহকারী সার্জন পদসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০টি। এ পদসংখ্যা ২৫০-৩০০ করা হলে উপজেলা পর্যায়ের সংকট কমে আসবে।
চাকরি প্রত্যাশী চিকিৎসকরা মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, ‘কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গত তিন মাস আগে সারা দেশে স্বাস্থ্য বিভাগে ভালো কার্যকলাপের জন্য চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল। ঐ সময় হাসপাতালটিতে কোন সংকট ছিল না। বর্তমানে তিন মাস পার হওয়ার পর আটজন চিকিৎসকেরস্থলে মাত্র দুই জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালটি কোনো রকম চলছে। বান্দরবানে থানচি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবারও বেহাল দশা। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে একজন চিকিৎসক দিয়ে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যোগদান করার কথা থাকলেও এখনো আসেননি তিনি। মেডিকেল অফিসারের চারজনের মধ্যে দুজন বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেষণে, আরেকজন ছুটিতে রয়েছেন। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র একজন ডাক্তার। এমন পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে। এতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ’
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪২তম স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরপর ৪৩ তম বিসিএসে সহকারি সার্জন পদ না থাকায় এই বিসিএসে কোন চিকিৎসক নিয়োগ পাননি। ৪৪তম বিসিএসের ভাইবা শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৪২তম বিসিএস এ যোগ দেয়া চিকিৎসকদের ইতোমধ্যে উপজেলাতে ২ বছর চাকুরিকাল সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় উচ্চতর পড়াশোনার কারণে অনেকেই বদলি হয়ে যাওয়াতে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলো চরম চিকিৎসক সংকটে ভুগছে, ফলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে গত ২১ নভেম্বর যশোর সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর জানিয়েছেন, ‘খুব দ্রুতই ২০০০ চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এদিকে গত ২ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে সরকারের অনুমোদিত শূন্য পদের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার একটি। এই শূন্যপদ পূরণের জন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, অধীন দপ্তর বা সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের অফিস সমূহকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এতদ্বাতীত শূন্যপদ পূরনে ইতোমধ্যে কী কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ৪৪তম বিসিএসের ভাইবা প্রত্যাশী ডা. জেরিন তাসনীম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শূন্যপদগুলোর মধ্যে চিকিৎসকদের জন্য ব্যাপক পদখালি রয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের স্বাস্থ্যখাতে এবং সেইসঙ্গে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এজন্য শূণ্য থাকা পদগুলোতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ করা প্রয়োজন। আর দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ করতে হলে ৪৪তম বিসিএসে সহকারী সার্জন পদসংখ্যা বাড়াতে হবে। তাতে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহজ হবে এবং চিকিৎসক সংকটের ঘাটতি দূর হবে।’
৪৪তম বিসিএসের ভাইবা প্রত্যাশী ডা. জান্নাতুল মাওয়া মেডিভয়েসকে জানান, ‘৪২তম বিসিএসে চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর ৪৫তম বিসিএসে ৪৫০টি, ৪৬তম বিসিএসে ১৬৮২ টি ও ৪৭তম বিসিএসে ১৩৩১টি সহকারী সার্জন পদ রয়েছে, যার কোনটিতেই দ্রুত নিয়োগ দেয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কেননা ৪৫ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দেয়া বাকি ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে কেবল এবং ৪৭তম বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশ হয়েছে মাত্র। অথচ, আসন্ন ৪৪তম বিসিএস এর মাধ্যমে এ নিয়োগ কিছুটা হলেও দ্রুত হবার সম্ভাবনা থাকলেও এ বিসিএসে ‘সহকারী সার্জন’ পদ রয়েছে, কেবল ১০০টি যা এর আশেপাশের বিসিএসের পদসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল।’
এদিকে ২০২১ সালে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও এখনও এই বিসিএস এর কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় লিখিত উত্তীর্ণ প্রার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। জানতে চাইলে ৪৪তম বিসিএসে সহকারী সার্জন পদের ভাইবা প্রার্থী ডা. আবু সালেহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘৪৪তম বিসিএসের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চাহিদা যাওয়ার ভিত্তিতে কিছুদিন আগে ১৫০টি সহকারী সার্জন পদবৃদ্ধির নিউজ দেখে আমরা আশার আলো দেখেছিলাম, যা এই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। কিন্তু ৪৭তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার পর থেকে এক বিসিএসের চাহিদা থেকে প্রাপ্ত পদ অন্য বিসিএসে দিয়ে দেয়া হচ্ছে এমনটা শোনা যাচ্ছে, যা তিন বছর অপেক্ষার পর আমাদের সাথে বৈষম্য করার শামিল ও অমানবিক।’
এ প্রসঙ্গে ৪৪তম বিসিএসের ভাইবা প্রত্যাশী ডা. সাখাওয়াত হোসাইন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘উপজেলাগুলোতে চিকিৎসক সংকট থাকা সত্বেও তিন বছর অপেক্ষার পর প্রিলি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শুধু মাত্র ১০০টি পদ থাকায় অনেক চিকিৎসক নিয়োগ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করে পদবৃদ্ধির ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ সংকট নিরসনে দ্রুত আরো অতিরিক্ত ১৫০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া সম্ভব। অন্যথায়, বিসিএস পরীক্ষাগুলোর ধীরগতির প্রেক্ষিতে ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ তম বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক সংকট সহসায় সমাধান হবে না।’
চিকিৎসকদের এ দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের কাছে মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এসএইচ
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৫
-
০১ জুলাই, ২০২৫
-
২৭ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১৮ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৬ অগাস্ট, ২০২৪