সংঘাত এড়াতে বরিশাল আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা, ১০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ায় বুধবার (২৭ নভেম্বর) বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হোস্টেলেও। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত আট শিক্ষার্থীকে হোস্টেল থেকে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া সতর্ক করা হয়েছে আরেক শিক্ষার্থীকে। আর মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে আজীবন বহিষ্কার হয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বরিশাল আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ড মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষার্থী ও আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ছয় দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে উপস্থিত হওয়া-না হওয়া নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এক পর্যায়ে ১০ নভেম্বর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এতে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ড মেডিভয়েসকে বলেন, উভয় পক্ষের মারামারির ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এর মধ্যে মারামারিতে জড়িত থাকায় আটজনকে হোস্টেল থেকে বহিষ্কার ও একজনকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকাসক্তির কারণে একজনকে আজীবন বহিষ্কার করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে অভিভাবককে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সোমবার এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর দেখলাম ক্যাম্পাসের অবস্থা খুব একটা ভালো না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এ কারণে মঙ্গলবার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করেছি। গতকাল (বুধবার) ১২টার সময় হোস্টেল তালাবদ্ধ করে দিয়েছি।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সব কিছু বিবেচনা করে সেটিও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে মারামারির ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একে অপরকে দায়ী করে দুটি মামলা করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, মারামারির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষই মামলা দায়ের করেছে। ১৫-২০ দিন আগে এই মামলাগুলো হয়েছে। এখন তদন্তাধীন রয়েছে।
এনএআর/