ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে বারডেমে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের বিক্ষোভ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভর্তি ফি কমানোসহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বারডেম একাডেমিতে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ব্লকে পরিচালকের রুমের সামনে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
চিকিৎসকরা বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলোতে অভিন্ন ভর্তি ফি চালুরও দাবি জানান।
বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক ফোরামের সভাপতি ডা. সামিউর রশিদ রিফাত মেডিভয়েসকে বলেন, পোস্টগ্রাজুয়েট শিক্ষা নিতে এসে শিক্ষার্থীরা উচ্চ মূল্যের একটি ফাঁদে পড়ে যায়। প্রতি বছর একেকটি প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকার ফি তাদের থেকে নিয়ে নেওয়া হয়। যেখানে তাদের ভাতা-ই নিয়মিত না, সেখানে তাদের কাছ থেকে যে টাকাগুলো নিয়ে নেওয়া হচ্ছে, সেটা অন্যায়, অন্যায্য।
তিনি বলেন, সবার আগে শিক্ষার অধিকারটি নিশ্চিত করতে হবে আর্থিক সুলভ ও সঙ্গতিপূর্ণ একটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে। অথচ বারডেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পোস্টগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বেড়াজালে আটকে রেখেছে।
ভর্তি ফি কমিয়ে এনে অভিন্ন নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়ে ডা. রিফাত বলেন, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কর্মঘণ্টা হচ্ছে আট ঘণ্টা। কিন্তু পোস্টগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরা ১৮ ঘণ্টাও ডিউটি করে। অথচ দিনের পর দিন নিয়মিত ভাতা পাচ্ছে না, আবার বছর বছর তাদের থেকে এতগুলো টাকা ভর্তি ফি নিয়ে নিচ্ছে। এটি নিষ্পেষণের একটি চরম উদাহরণ।
বারডেমে পোস্টগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই উল্লেখ করে রেসিডেন্ট (রেডিওলজি) ডা. সোনিয়া জেবিন প্রীতি বলেন, রেসিডেন্টবান্ধব যে একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা ছিল, ওয়ার্ডগুলোর তেমন পরিবেশ আমরা পাইনি। ক্লাস হয় না, আমরা শেখার সুযোগ পাই না। এতগুলো অসুবিধা নিয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডাক্তার হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ভালোভাবে বাঁচার জন্য আমাদের দুইটি মাত্র দাবি, পরিবারসহ আমাদের স্বাস্থ্য সুবিধাটি নিশ্চিত করা। একইসাথে, প্রতি বছর যে ৫০ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে, সেটি কমিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের (বিএসএমএমইউ) আলোকে ধার্য করা।
ডা. প্রীতি বলেন, আমাদের দাবি দুইটি। আমাদের ডাল-ভাতের দাবি পূরণ হোক, আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা-এই দাবিগুলো আদায় হোক। এটাই আমাদের প্রাণের দাবি।
এ ছাড়া নবম গ্রেডে ভাতা চালু করার দাবিও জানান তিনি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এটি হওয়া সম্ভব বলেও মত ডা. সোনিয়া জেবিন প্রীতির।
এমইউ/এনএআর/