২৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৩৫ পিএম

স্বাস্থ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জিপি মডেল চালুর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

স্বাস্থ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জিপি মডেল চালুর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ‘সাধারণ চিকিৎসক’ বা ‘জেনারেল প্র্যাকটিশনার’কেন্দ্রিক ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যবস্থা চালু হলে উপজেলা পর্যায়েই ৮০-৯০ শতাংশ রোগের সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সভাকক্ষে নাগরিক সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফরমস বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ পরামর্শ উঠে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা সভায় কথা বলেন।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসকসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিযুক্ত রাখা হয়। এখানে বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় না। বিশেষায়িত সেবার জন্য রোগীকে উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করা হয়। উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করা রোগী দেখার বাধ্যবাধকতা থাকে।

যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, কানাডা, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনে জেনারেল প্র্যাকটিশনার বা সাধারণ চিকিৎসককেন্দ্রিক সেবাব্যবস্থা চালু আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় ইউনিয়ন হবে কেন্দ্র। এখানে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন ৮ জন। এর নিচে থাকবে কমিউনিটি ক্লিনিক, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন ৫ জন। কেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। স্বাভাবিক প্রসবসেবা পাওয়া যাবে ২৪ ঘণ্টা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে জনবল সমস্যা মেটানোর প্রস্তাব করেন এই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যুক্তরাজ্যে জেনারেল প্র্যাকটিশনার বা জিপি ব্যবস্থা প্রবর্তনের সময় দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সবচেয়ে খারাপ ছিল। জিপি ব্যবস্থা আছে, এমন প্রতিটি দেশের সরকারই চালু করেছে। এসব দেশে বড় বড় এনজিওর কোনো সংযুক্ততা ছিল না, দরকারও হয়নি। অর্থ যা লেগেছে, সরকারই দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল বলেন, এতে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলে উপজেলা পর্যায়ে ৮০-৯০ শতাংশ রোগের সমাধান হবে। বাকি ২০ বা ১০ শতাংশ রোগীকে রেফার করতে হবে।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক