দায়সারা কাজে ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ
ঢামেকে ৭ শৌচাগারে টাইলস বসানোয় খরচ কোটি টাকা
আবু নাঈম মনির: ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সাতটি শৌচাগার সংস্কার কাজে এক কোটি ১৪ লাখ টাকার খরচ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মেডিকেল কলেজ আওতাধীন ও ছাত্রী হোস্টেলের ক্যান্টিনের শৌচাগার মেরামতে খরচ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
এ ছাড়াও কয়েকটি বিভাগের কক্ষ, জিমনেসিয়াম, সীমানা প্রাচীর ও জানালা সংস্কার কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মানহীন কাজ এবং কিছু কাজ না করেই তদারক কমিটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দুই কোটি ৮৯ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই খরচকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিয়মে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কলেজের সাধারণ চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে জানিয়ে তদারক কমিটির একাধিক সদস্য মেডিভয়েসকে বলেছেন, মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়, কাটছাঁট করলে তারাই করেন। অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে মেডিকেল কলেজের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই।
জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামো উন্নয়নে স্থাপনাগুলোর মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত বছরের ১৯ জুন ঢামেকের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুল আলম চৌধুরী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দের আবেদন করেন।
পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে। কাজ তদারকির জন্য ঢামেকের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ (পরে অধ্যক্ষ হন) ডা. মো. শফিকুল আলম চৌধুরীকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. শাহরিয়ার নবীকে সদস্য এবং ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদ্যুত কুমার সাহাকে সদস্য সচিব করা হয়।
তদারক কমিটি গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শেষ হওয়া সংস্কার/মেরামত কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করে। অনুমোদনের একটি কপি মেডিভয়েসের কাছে এসেছে, যেখানে অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে কাজের মানের রয়েছে বিশাল পার্থক্য।
সাত শৌচাগার সংস্কারে খরচ ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা
তালিকা অনুযায়ী, ঢামেকের ডা. ফজলে রাব্বি হলের ডি-ব্লকে ৮টি কক্ষে চারটা শৌচাগারের টাইলস মেরামতের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ লাখ টাকা। ডা. আলীম চৌধুরী (নতুন) ছাত্রী হোস্টেলের বাথরুম ও শৌচাগার সংস্কার, টাইলসকরণ ও স্যানিটারি ফিটিংস বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। ডা. মিলন ইন্টার্নি ছাত্রী হোস্টেলের বাথরুম ও শৌচাগারে টাইলস লাগানো ও স্যানিটারি ফিটিংস সংস্কারে খরচ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ছাত্রী হোস্টেলের ক্যান্টিনের শৌচাগার মেরামতে ১২ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কাজের অনুমোদনপত্রে সবমিলে সাতটি শৌচাগার মেরামতের নামে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার খরচ দেখানো হয়।
মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ পাশের ভেতরের চত্বরসংলগ্ন অংশের নিচতলা থেকে চতুর্থতলা পর্যন্ত কাঠের জানালার পরিবর্তে থাই অ্যালুমিনিয়ামের জানালা স্থাপনে ১৭ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। একইভাবে টিচার্স লাউঞ্জ সংস্কারে ১২ লাখ টাকা, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের বিভিন্ন কক্ষ সংস্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজে ২৪ লাখ টাকা, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন কক্ষ সংস্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজে ১২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
কলেজের সম্মুখ অংশের সীমানা প্রাচীর সংস্কার ও আধুনিকায়নসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ২৫ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসের প্রধান ভবনের জিমনেসিয়াম কক্ষের মেরামত ও সংস্কারসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সবমিলে (শৌচাগার মেরামতের খরচের বাইরে) কাজগুলোতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
নেই জিমনেশিয়ামের অস্তিত্ব
ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসে সরেজমিনে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে জিমনেশিয়ামের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখানে দেখা মেলে রিডিং রুমের। তা সংস্কার কাজের মানের বিপরীতে খরচ দেখানো হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। প্রায় সমান পরিধির দুটি রুম মেরামতের জন্য দেখানো হয়েছে বিশাল অংকের খরচ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও শিক্ষক মেডিভয়েসকে বলেছেন, কাগজে-কলমে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ডা. ফজলে রাব্বি হলে জিমনেসিয়াম তৈরির কথা বলা হলেও তার ছিটেফোঁটাও নেই। শৌচাগারগুলোতে নিম্নমানের টাইলস, কমোড বসানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি শৌচাগারের কোনো সংস্কারই হয়নি।
একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অভিযোগ, এই অনিয়মের সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের মেডিকেল কলেজ শাখা সংশ্লিষ্টরা জড়িত।
ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তদারক কমিটির সদস্য সচিব ঢামেকের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রদ্যুৎ কুমার সাহা মেডিভয়েসকে বলেন, অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার শাস্তি হবে।
শৌচাগার মেরামতের খরচ ১২ লাখ
সাকুল্যে লাখ টাকায় সম্পাদনযোগ্য কোনো কাজের ব্যয় কয়েক লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এই অস্বাভাবিক খরচের ব্যাপারে আপনি জানতে চয়েছেন কিনা এবং আপনার এ অধিকার আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. প্রদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘কাজ ঠিকঠাক মতো হয়েছে কিনা, আমরা শুধু এটা খেয়াল করেছি।’
শুধু মেডিকেল কলেজ আওতাধীন ও ছাত্রী হোস্টেলের ক্যান্টিনের শৌচাগার মেরামতে ১২ লাখ টাকা ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই টয়লেট সংস্কার করা হয়েছে। এটা ঠিক করেছে মন্ত্রণালয়ের লোক। টাকা বরাদ্দ হয়েছে ওখান থেকে। পিডব্লিউডির তত্ত্বাবধানে ঠিকাদার কাজ করেছে। আমরা শুধু পরিদর্শন করেছি। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তুলেছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি উপসহকারী প্রকৌশলী-৩ মো. সাইফুল ইসলাম সাহেবকে বলেছি, আপনারা যে কাজগুলো করছেন, বাজারমূল্যের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা? কারণ জায়গাটি খুব ছোট্ট। তারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই খরচ। তারা দুইবার আমার কাছে এসেছে। তারা বলেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বরাদ্দ দেওয়া আছে।’
তবে অস্বাভাবিক খরচের এসব কাজ অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষরে তাঁর ওপর কোনো চাপ ছিল না বলেও জানান ঢামেকের ইউরোলজি বিভাগের এই অধ্যাপক।
দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারেন। যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে, এটার তদন্ত দরকার।
তদারক কমিটি দায় এড়াতে পারে?
অস্বাভাবিক খরচের এই সংস্কার কাজের অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর থাকায় এই অনিয়মে আপনি সম্পৃক্ততার দায় এড়াতে পারেন না। এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি আমার অধ্যক্ষ মহোদয়ের অধীনে কাজ করি, তিনি আমাকে কমিটির দায়িত্ব দিয়েছেন। এখানে আমার আরেক সহকর্মীও ছিলেন, তারা যেহেতু সই করেছেন, আমিও সই করেছি ...।’
এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সচিব এ. জেড. এম আনারুল কবির মেডিভয়েসকে বলেন, সম্পূর্ণ দায়িত্ব পিডব্লিউডির। তবে ব্যক্তিগত কোনো টয়লেট সংস্কারের জন্য ১২ লাখ টাকা খরচ হবে না।
কমিটির অন্যতম সদস্য রেডিওলোজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছি, যেই কাজটুকু করার কথা তারা তা করেছে কিনা, দেখেছি। এটুকুই আমাদের এখতিয়ার। আমার নিজের ঘরের কথা যদি বলি, সেখানে কত টাকা খরচ হবে, এ ব্যাপারে আমার একটি মূল্যায়ন আছে। ... কিন্তু এখানে তা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটি করে দেয় পিডব্লিইডি। সেখানে মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে। অর্থনৈতিক বিষয়গুলো আমাদের এখতিয়ারে নেই। এখানে আমাদের মতামতের কোনো ভূমিকাই নেই।’
জিমনেসিয়ামের কী কাজ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিমনেসিয়ামের টাইলস ছিল, উপরের এনিমেশন সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে এটাকে রিডিং রুম হিসেবে প্রস্তুত করা হয়।’
জিমনেসিয়াম যেভাবে রিডিং রুম
রিডিং রুমের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত আসেনি জানিয়ে ডা. শাহরিয়ার নবী বলেন, অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে জিমনেসিয়ামকে রিডিং রুমে পরিণত করা হয়। তবে কাজের তালিকায় জিমনেসিয়ামকে রিডিং রুম করার কথা উল্লেখ ছিল না।
অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষরের আগে এসব অস্বাভাবিক খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে অধ্যক্ষ মহোদয়কে বলেছি যে, এই বাজেটে কোনো সমস্যা আছে কিনা! উনি পরিষ্কার বলেছেন, এখানে পিডব্লিউডি ও মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন করা থাকে।’
যা বললেন অধ্যক্ষ
জিমনেসিয়ামের বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্কার কাজ তদারক কমিটির সভাপতি ও ঢামেকের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুল আলম চৌধুরী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘জিমনেসিয়ামের অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। এটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। আমরা এর সংস্কার করে রিডিং রুমে পরিণত করেছি।’
রিডিং রুম সরেজমিনে দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। কাজের তুলনায় এর খরচকে আপনি অস্বাভাবিক মনে করেন কিনা? এ ব্যাপার তাঁর উত্তর, ‘এভাবে তো আমি বলতে পারবো না। আপনাকে কাজের পরিমাণ দেখতে হবে। কাজটা সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সেটাই আমরা দেখি। টাকা পয়সা কিন্তু আমাদের দেখার ব্যাপার না। ওটা শতভাগ পিডব্লিউডি ও মন্তণালয়ের ব্যাপার।’
এটা অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হলে আপনারা স্বাক্ষরকারী হিসেবে দায়ী হবেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুনেন, আমরা কাজের চাহিদা দিলে মন্ত্রণালয় মূল্যায়ন করে। তারা সঠিক মনে করলে অনুমোদন দেয়। অন্যথায় দেয় না। পিডব্লিউডি টেন্ডারসহ কাজ বাস্তবায়ন করে। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। কাজেই আমাদের তরফে অনিয়মের বিষয়ে এখানে কোনো প্রশ্ন নেই। এখান থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যাপারে আমি মোটেও জড়িত নই।’
এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদেরও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম। বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের লোক সন্তুষ্ট হয়েই আমাদেরকে বলেছে, এর পর আমরা সই করেছি। কাজ তো তাদের বিভাগেই হয়েছে। তবে খরচের বিষয়ে তারা অবগত কিনা, আমি নিশ্চিত না।’
এসব বিষয়ে জানতে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) অফিসে আসেন। আমি সকাল ৯টা থেকেই থাকবো।’
তবে সেদিন গিয়ে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি।
এমইউ/