২৫ মে, ২০২৪ ০৯:৩৭ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংলাপে বক্তারা

‘ব্যবস্থাপত্রে জেনেরিক নাম লিখলে কমবে ওষুধের দাম’

‘ব্যবস্থাপত্রে জেনেরিক নাম লিখলে কমবে ওষুধের দাম’
ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিতে বায়ো ইকুইভ্যালেন্স স্টাডি করার দাবি জানিয়েছেন তারা। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগ্রাসী বাণিজ্যের কারণে বেড়েই চলেছে ওষুধের দাম। দেশে বর্তমানে ওষুধের বাজার দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকায়। কিন্তু ওষুধ কোম্পানির প্রতিযোগিতার কারণে এর সিংহভাগই চলে যাচ্ছে প্রমোশনে। যা আবার উসুল হচ্ছে রোগীর পকেট থেকে। তবে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের জেনেরিক নাম লিখলে ওষুধের দাম কমে আসবে।

আজ শনিবার (২৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে ‘ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের জেনেরিক নামের ব্যবহার বাংলাদেশে আগ্রাসী বাণিজ্যে রুখতে পারে কি?’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট এই সংলাপের আয়োজন করে।

এই সময় আলোচকরা জানান, রাসায়নিক, জেনেরিক এবং ট্রেড–এই তিনটি পদ্ধতিতে ওষুধের নামকরণ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ট্রেড পদ্ধতি মূলত কোম্পানির ব্র্যান্ড নাম। আর জেনেরিক পদ্ধতি অ–মালিকানামূলক নাম।

তারা বলেন, ব্যবস্থাপত্রে কোম্পানির নাম না লিখে, জেনেরিক নাম লিখলে দাম অনেক কমে আসবে। কারণ এতে আগ্রাসী বাণিজ্য কমে আসবে কোম্পানিগুলোর। এটা করা হলে ওষুধ কিনতে গিয়ে রোগীকে যে বিপুল ব্যয় করতে হয়, তা থেকে অন্তত ১০-১২ হাজার কোটি টাকার বোঝা রোগীর ঘাড় থেকে নেমে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিতে বায়ো ইকুইভ্যালেন্স স্টাডি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আলোচকরা বলেন, এ ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখছেন ঠিকই, কিন্তু ওষুধ সরবরাহ করছেন অষ্টম-দশম পাস একজন দোকানি। তারা তাদের সুবিধামতো অর্থাৎ যে ওষুধগুলোতে লাভ বেশি, সেগুলো সরবরাহ করতে পারেন। এ জন্য ওষুধের গুণগতমান ঠিক রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে।

গ্রামে-গঞ্জে অসংখ্য প্যারামেডিক্স ওষুধ লিখছেন উল্লেখ করে তারা বলেন, সেখানেও নজরদারি বাড়াতে হবে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট ছাড়াও ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব দিতে হবে। রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টরা যাতে ফার্মেসিতে কাজ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশ এখন ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাত্র ১-২ শতাংশ ওষুধ আমদানি করতে হয়। ১৫০টি দেশে এখন বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হয়। ৩২২টি নিবন্ধিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধিত ২০৬টি আয়ুর্বেদিক ও ২৮৭টি ইউনানি ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কর্মশালার সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মুনীরউদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক আহমেদুল কবির, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ও বর্তমানে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার, জনস্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল, ফার্মাসিস্ট তানভীর আশরাফ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান শিখা গাঙ্গুলী ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ফাতেমা আশরাফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ওষুধ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক