১৫ মে, ২০২৪ ০১:০৯ পিএম

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে গোল্ডেন এ প্লাস, চিকিৎসক হতে চান মাহাথির

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে গোল্ডেন এ প্লাস, চিকিৎসক হতে চান মাহাথির
মা-বাবার সঙ্গে মাহাথির। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দীর্ঘ পাঁচ বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পরও দমানো যায়নি বরিশাল জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহাথির রহমানকে। এ বছর তিনি প্রতিটি বিষয়ে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) নিয়ে পাস করেছে। ভবিষ্যতে ক্যান্সারের চিকিৎসক হতে চান মাহাথির। আর তাকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন তার মা-বাবা এবং আত্মীয়স্বজন।

বরিশাল নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মুন্সির গ্য্যারেজ এলাকার বাসিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মফিজুর রহমান জামাল ও হোসনে আরা পলিন দম্পতির ছেলে মাহাথির রহমান। যমজ দুই ভাইয়ের আরেকজন মাকতুম রহমান বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

মাহাথির রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৮ সালে ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন মায়ের সঙ্গে মার্কেটে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের কাছে গেলে জানতে পারে ব্লাড ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। এরপর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা চলে। তার অসুস্থতার খবর শুনে দেশে ফিরে আসেন বাবা। ভারতে একটানা ছয় মাস চিকিৎসা করেন। কোভিডের সময় তিন মাস পর পর আসা যাওয়া করতে অনেক সমস্যা হয়। তার পরেও সুস্থ হয়ে ২০২২ সালে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফরম পূরণ করেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এ সময় তার ও ভাইয়ের খারাপ লেগেছিল। কিন্তু করার তো কিছু ছিল না তার। ভাই জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

তিনি জানান, ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে। যমজ ভাই মাকতুম রহমান তাকে স্টিম সেল দিয়েছে। এখন ভালো আছে সে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  

জানা গেছে, মাহাথির অসুস্থ হলেও পরিবার সব সময় তাকে সাহস দিয়েছে। কখনো তারা বুঝতে দেয়নি সে অসুস্থ। পরিবার ও শিক্ষকরা সব সময় পাশে ছিল। তাদের উৎসাহে মনোবল ভাঙেনি। তাদের দেওয়া সাহস ও নিজের ওপর আস্থা ভালো ফল অর্জনে সহায়তা করেছে।  গ্লোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পাওয়ায় তার ইচ্ছা ঢাকা নরডেম কলেজে পড়ার। সুযোগ পেলে সেখানে পড়বেন। নয়তো ঢাকার ভালো কোনো কলেজে পড়ার চেষ্টা করবেন।

ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জানিয়ে মাহাথির বলে, আমি তো একজন অসুস্থ রোগী। তাই চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা করতে চাই।  

তার বাবা মফিজুর রহমান জামাল গণমাধ্যমকে জানান, ভালো রেজাল্ট করায় আমরা খুশি। ভবিষ্যতে সে চিকিৎসক হতে চায়। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব।  

মাহাথিরের মা হোসনে আরা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার যমজ দুই ছেলেই মেধাবী। তারা বেশিরভাগ সময় পড়ালেখায় কাটায়। পড়ার জন্য তাদের বলতে হয় না। মাহাথির চিকিৎসাধীন অবস্থায় বই নিয়ে পড়াশুনা করত। তার শরীর ভালো থাকলেই কোনোভাবে তাকে আটকানো যেত না। আর এ কারণেই এসএসসিতে ভালো ফল করেছে। ছোটবেলা থেকেই মাহাথির বলত, সে ডাক্তার হবে। অসুস্থ হওয়ার পর সেই আবেগটা তার মধ্যে বেশি কাজ করেছে। কারণ, ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে কষ্টটা অনুভব করতে পেরেছে সে। এ কারণে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হতে চায় মাহাথির।

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া জেসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যানসারের মতো এমন মরণব্যাধি নিয়েও এসএসসি পরীক্ষায় মাহাথিরের এমন সাফল্যে খুশি আমরা সবাই। যেকোনো প্রয়োজনে মাহাথিরের পাশে থাকাব।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ক্যান্সার
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক