মেহের কবীর বিজ্ঞান সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত অধ্যাপক আব্দুল্লাহ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রথম চিকিৎসক হিসেবে বাংলা একাডেমি ‘মেহের কবীর বিজ্ঞান সাহিত্য পুরস্কারে’ ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ। গত ২৫ নভেম্বর একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৬তম বার্ষিক সভায় তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ সময় তাঁর হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। মেহের কবীর বিজ্ঞান সাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা।
পুরস্কার প্রাপ্তি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আমাকে মেহের কবীর বিজ্ঞান সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ প্রদান করেছে। এর আগে ২০১৬ সালে তারা আমাকে ফেলোশিপ দিয়েছিল। তাদের এ উদ্যোগে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। এ পুরস্কারের মাধ্যমে দেশ ও জাতির প্রতি আমার দায় আরও বাড়লো। আমাকে সম্মানিত করায় বাংলা একাডেমির প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার আলোকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। এর স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন তিনি।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর একাডেমি ২০২৩ সালের এই সাহিত্য পুরস্কারের জন্য বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। শিল্প সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য পুরস্কার অর্জন করেন সাত বিশিষ্টজন।
‘মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার’ পান কবি নির্মলেন্দু গুণ; রামেন্দু মজুমদার পান ‘অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার’।
‘আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার’ এ ভূষিত হন ড. মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ।
‘সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার’ পান ড. অনুপম সেন।
নির্মলেন্দু গুণ, রামেন্দু মজুমদার, এবিএম আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ ও অনুপম সেনের পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা।
এ ছাড়া ‘সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কারে’ ভূষিত হন কবি ওমর কায়সার;
বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট: বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অবদান গ্রন্থের জন্য ‘হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কারের’ জন্য মনোনীত হন আবদুল গাফফার।
ওমর কায়সার এবং আবদুল গাফফারের পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা।
অধ্যাপক আবদুল্লাহর আরও অর্জন
দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাসহ সামগ্রিক পেশার উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর অসামান্য অবদান রয়েছে।
এর স্বীকৃতি স্বরূপ দেশি-বিদেশি ১৪টি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেজ্ঞ।
চিকিৎসা সেবায় অবদানের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পদকে ভূষিত হন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।
এর আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে আজীবন সম্মাননা দেয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'দেশ টিভি’। রাজধানীর একটি হোটেলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
একই বছরের এপ্রিল মাসে মেডিসিনের বাইবেলখ্যাত পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস’ প্রিন্সিপ্যাল অ্যান্ড প্রাকটিস অব মেডিসিন’র ২৪তম আন্তর্জাতিক সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মনোনীত হন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে সরকার তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৭ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
এর পরের বছর আগস্ট মাসে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘ইউজিসি প্রফেসরশিপ’ সম্মানে ভূষিত হন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।
গত বছরের বছরের ৩১ জানুয়ারি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।
করোনা প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অনলাইনে চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে তাঁকে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। একই বছর ‘এটিএন বাংলা-উন্নয়নে বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পান ডা. আব্দুল্লাহ। এ ছাড়াও বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
বেড়ে ওঠার গল্প
তিনি ১৯৫৪ সালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হাড়িয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। এর পর ১৯৬৯ সালে ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।
এর পর কিছুদিন গ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন মেডিকেল অফিসার হিসেবে হিসেবে। এরপর চলে যান সৌদি আরব। সেখানে পাঁচ বছর চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে চলে যান লন্ডনে।
যুক্তরাজ্যে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করে দেশে এসে রাজধানীর হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে দুই বছর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৫ সালে পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) যোগদান করেন।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অনুষদের ডিন ও মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ থেকে অবসরে যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।
এএনএম/