অক্টোবরে যেসব চিকিৎসককে হারালাম!
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গেল অক্টোবর মাসে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ১৩ জন চিকিৎসক। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেডিকেল গবেষক এবং স্বাস্থ্যের ঊর্ধ্বতন প্রশাসকসহ বহু নবীন চিকিৎসক। চিরবিয়োগের তালিকায় নাম যুক্ত হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুন হয়েছেন, এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও চারজন। এক মাসে এতো অধিক সংখ্যক সম্মুখসারির যোদ্ধার বিদায়ে শোকে মুহ্যমান চিকিৎসক মহল।
চিরবিদায় নেওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান চিকিৎসকরা। সেই সাথে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
স্বাস্থ্যের সাবেক মহাপরিচালকের বিদায়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ গত ২৯ অক্টোবর মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সাবেক মহাপরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, রোববার (২৯ অক্টোবর) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ছাত্র ও চিকিৎসক সহকর্মীদের রেখে গিয়েছেন।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, ‘অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহর মৃত্যুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়সহ সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ শোকাভিভূত। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিবার তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’
সাবেক এ স্বাস্থ্য প্রশাসকের মৃত্যুতে শোক জানায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।
তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. সিফায়েত উল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। মেডিকেল শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) ও সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) বাস্তবায়নে অন্যতম ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’
সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় ডা. রিদওয়ানুর রহমান
গত ২৫ অক্টোবর না ফেরার দেশে পারি জমান প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, জনপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম মেডিভয়েসকে মৃতুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ২৪ অক্টোবর ভোরে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। পরে রাজধানীর ল্যাবএইড (ধানমন্ডি) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ডা. রিদওয়ানুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশে মেডিসিন বিভাগের একজন কিংবদন্তি শিক্ষক ও দেশবরেণ্য চিকিৎসক। মেডিকেল শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণায় সমান আলো ছড়িয়েছেন তিনি।
সদা হাস্যোজ্জ্বল এ চিকিৎসকের সযত্ন চিকিৎসায় যেমন রোগীর মুখে হাসি ফুটেছে, তেমনি তাঁর আন্তরিক পাঠদান হয়েছে শিক্ষার্থীদের তৃপ্তির খোরাক। আর এভাবেই শিক্ষার্থী, বন্ধু-সহকর্মী ও রোগীসহ সকলের মনে জায়গা করে নিয়েন এই ক্ষণজন্মা চিকিৎসক।
ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ে তাঁর গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সকল মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ১৬৭টি পাবলিকেশন এবং ৫ হাজার ২৮৪টি সাইটেশন রয়েছে৷
জটিল রোগে না ফেরার দেশে স্বাস্থ্যের সাবেক পরিচালক
জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়া।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডা. আবদুর রাজ্জাকের সন্তান ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জারি) ডা. মো. মারুফ হাসান।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়া দুরারোগ্য পিত্তথলির ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।’
ডা. মো. মারুফ হাসান বলেন, ‘বাবার প্রথম নামাজে জানাজা দুপুর ১২টায় হাসপাতালের ডরমিটরি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় নামাজে জানাজা উত্তরা ১৩ নং সেক্টর জামে মসজিদে বাদ আছর অনুষ্ঠিত হবে।’
দুর্বৃত্তের হাতে খুন রাজশাহীর জনপ্রিয় চিকিৎসক
কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হয়েছেন জনপ্রিয় চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজেম আলী আহমেদ। রোববার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর বর্ণালী মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বিজয় বসাক সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কাজ করছি। আমরা এখন মেডিকেল কলেজেই আছি।’
হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত থাকতে পারে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পেয়েছেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলতে পারছি না। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’
চিকিৎসদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর লক্ষ্মীপুরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দিতেন ডা. আলী আহমেদ। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে রোগী দেখে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বর্ণালীর মোড়ের খানিকটা আগে রাজীব চত্বরের বিপরীত পাশে মসজিদের নিকট তাঁর মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় অতর্কিতে তাঁর বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। শুরুতে সাধারণ ওয়ার্ডে (৫ নম্বর) ভর্তি করা হলেও পরে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যে ১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ডা. কাজেম আলী আহমেদ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন রামেকের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে ডার্মাটোলজিতে এফসিপিএস সম্পন্ন করেন। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে ডিডিভি করেন। তিনি অল্প সময়ে কসমেটিক সার্জারিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।
অনাকাঙিক্ষত এ চির বিদায়ের সময় স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন ডা. কাজেম আলী আহমেদ।
রামেকের সাবেক অধ্যক্ষের মৃত্যু
গত ৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহকারী সার্জন ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল মেডিভয়েসকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম এসএসসি ও এইচএসসির গন্ডি পেরিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্বাস্থ্যসেবার সনদ গ্রহণ করেন ডা. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী মেডিকেল উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেতে যান তিনি।
বিস্তৃত ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি রামেকের পাশাপাশি বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর চারঘাটের বাসিন্দা। বিনয়, ভদ্রতা ও আন্তরিক সেবাদানের জন্য সেখানে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
অধ্যাপক ফেরদৌস আরার চিরবিদায়
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আরা জে জেনান মারা গেছেন। সোমবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ বাসায় মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বিস্তৃত কর্মজীবনে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন।
হৃদরোগে না ফেরার দেশে ডা. নিশাত আব্দুল্লাহ
খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ নিশাত আব্দুল্লাহ গত ২ অক্টেবর ভোর ৫টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
ডা. নিশাত আব্দুল্লাহ খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সংযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি এমবিবিএস পাস করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেট ছিলেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর মহাপরিচালকসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেন। এছাড়াও ডা. নিশাতের মৃত্যুতে গভীর শোক জানায় চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর। সেইসাথে মরহুমের পরিবারের সকলের প্রতি সমবেদনা জানান সংগঠনটির নেতারা।
সড়কে ঝড়ল ডা. তপন কুমারের প্রাণ
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. তপন কুমার মন্ডল মারা গেছেন। রোববার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সূত্রে জানা গেছে, একই দিন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রাইভেটকার চালিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ডা. তপন কুমার মন্ডল। কাশিয়ানী উপজেলার গেরাখোলা এলাকায় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ সময় ডা. তপন গাড়িতে একাই ছিলেন।
পরে এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান তিনি।
ডা. তপন কুমার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে সার্জারি এফসিপিএস করে সম্পন্ন করেন।
নিহত তপন কুমার বাগেরহাটে জেলার চিতলমাড়ি উপজেলার পরানপুর গ্রামের মৃত গৌরদাস মন্ডলের ছেলে। তার স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৫৫তম ব্যাচের ডা. শর্মিষ্ঠা ঘোষাল। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় থাকতেন ডা. তপন কুমার মন্ডল।
ট্রাকচাপায় চলে গেলেন ডা. হাফিজ
জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ডা. মো. হাফিজুর রহমান (৩৮) ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছেন। রোববার ( ৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নান্দিনা-জামালপুর সড়কের জয়রামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ডা. হাফিজুর জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি নান্দিনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। ৪০তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে এগারো মাস আগে নিয়োগ পান তিনি। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন ডা. হাফিজুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডা. হাফিজুর রহমান জামালপুর শহরের ভাড়া বাসায় থাকতেন। রোববার সকালে বাসা থেকে মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থল নান্দিনা উপস্বাস্থা কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় জয়রামপুর এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতদিক থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়, এতে গুরুতর আহত হন ডা. হাফিজুর। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় বিদায় ডা. মুবাশ্বির
সড়ক দুর্ঘটনায় মস্কিষ্কে মারাত্মকভাবে আঘাত পাওয়া আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মুবাশ্বির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টায় খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি।
এর আগে দীর্ঘ ২৯ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর সাথে সকল লেনদেন চুকিয়ে অনন্তকালের পথে যাত্রা শুরু করেন তরুণ এ চিকিৎসক।
আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে তাঁর মৃত্যুর তথ্য শেয়ার করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ডা. মুবাশ্বির মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর মেহমান হয়ে আমাদের নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ ২৯ দিনের পথচলায় তার চিকিৎসা সেবার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার রুহের মাগফেরাতের জন্য সবাই দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ তার জীবনের গুনাহগুলো মাফ করে, তাকে শহীদের মর্যাদা দান করুক, আমীন।’
ট্রেনের ধাক্কায় ডা. সৈকতের মৃত্যু
ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সিটি ডেন্টাল কলেজের (সিডিসি) ডা. শাহরিয়ার মোর্শেদ সৈকত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার (২২ অক্টোবর) সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেসে (নিন্স) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর বুলবুল এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
এর গত ১৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় দুর্ঘটনায় আহত হন সিডিসির ১৬তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী।
পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে নিউরো সায়েন্সেসের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসক সূত্রগুলো জানায়, ডা. সৈকতের স্পাইনাল কর্ড ও ফ্রন্টাল বোনসসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়েছে। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে (নিন্স) নেওয়া হয়েছে।
ডা. সৈকত শাহরিয়ারের গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নে। গাংনী পাইলট স্কুল থেকে এসএসসি ও সন্ধানী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন ডা. সৈকত। তিনি বর্তমানে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশ বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক রফিকুর রশিদ রিজভীর ছোট ছেলে তিনি।
কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলায় ডা. জহিরের মৃত্যু
কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক মারা গেছেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ডা. জহিরুল হকের স্বজনরা জানান, শনিবার (২১ অক্টোবর) কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় শাপলা টাওয়ারে পরিচালনা কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ডা. জহির ও তার স্ত্রী হিমিকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় ডা. জহিরকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনার দিন রাতেই ডা. জহিরুল হকের স্ত্রী হিমি বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আসামিরা হলেন, সালাউদ্দিন মোর্শেদ ভুইয়া ওরফে পাপ্পু, তার স্ত্রী সুমী, ছেলে আরহাম ও আহনাফ এবং সিলভার ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ।
মামলায় বিষয় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’
মারা গেছেন ডেন্টিস্ট মাহমুদা সারোয়ার
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের (ইউডিসি) পঞ্চম ব্যাচের ডা. মাহমুদা সারোয়ার বাবলী মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির বুলবুল তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও গত সেপ্টেম্বর মাসে আটজন ও আগস্ট মাসে সাতজন চিকিৎসক পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।
এসএস/এএনএম
-
১৯ মে, ২০২৬
-
০৪ মে, ২০২৬
-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
-
২০ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
২৬ মার্চ, ২০২৬
-
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬