বিশ্বে প্রতি বছর ৫৬.৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্যালিয়েটিভ সেবা প্রয়োজন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিশ্বে প্রতি বছর ৫৬ দশমিক আট মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্যালিয়েটিভ সেবা প্রয়োজন। যার মধ্যে ৩১ দশমিক এক মিলিয়ন প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ২৫ দশমিক সাত মিলিয়ন জীবনের শেষের দিকে। এর প্রায় ৬৭ শতাংশ ৫০ বছরের বেশি বয়সী এবং কমপক্ষে সাত শতাংশ শিশু।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিশ্ব হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস-২০২৩ পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ‘গ্লোবাল অ্যাটলাস অফ প্যালিয়েটিভ কেয়ার- ২০২০ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
আলোচনা সভা বলা হয়, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে প্রচারণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিস্তার ঘটানোই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য। প্যালিয়েটিভ কেয়ার একটি নাগরিক অধিকার। আমার বা আপনার যে কারোর যেকোন সময় এই সেবার প্রয়োজন হতে পারে। নিরাময় অযোগ্য রোগীর ক্ষেত্রে রোগের যেকোন সময় বা বয়স থেকেই রোগী এবং তার পরিবারের দৈনন্দিন কষ্টগুলোকে কমিয়ে আনা এবং জীবনের মান উন্নয়নে সহায়তা করাই এই সেবার মূল উদ্দেশ্য। প্যালিয়েটিভ কেয়ার মৃত্যুকে তরান্বিত বা দেরি করায় না, বরং মৃত্যুকালীন ভোগান্তি লাঘবে চেষ্টা করে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষের জীবনের শেষ সময়ে উপশমকারী যত্ন প্রয়োজন। সারাবিশ্বের এই চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম পূরণ করা সম্ভব হয়। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই সেবা এখনও অনুকূলে নয়। বিশ্বব্যাপী প্যালিয়েটিভ কেয়ারের চাহিদার ১২ শতাংশেরও কম মেটানো সম্ভব হয়। বাংলাদেশে বছরের যেকোন সময় লক্ষ মানুষের প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রয়োজন। সারাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে মাত্র অল্প কিছু স্থানে এই সেবার প্রচলন আছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, সহানুভূতির সাথে, মমতার সাথে মুমূর্ষু মৃত্যু পথযাত্রীদের সেবাদানই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মূখ্য উদ্দেশ্য। ২০ বছর আগে নানান সীমাবদ্ধতার মাঝে বিভাগটি চালু করা হয়েছে। আমি, আপনি, আমার পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য একদিন ঠিকই এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবার দরকার হবে। নানা সীমবদ্ধতার মাঝেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ বিশ্বমানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন প্রতিটি সংকট নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুবন্ধ ৬৭.১৯ তে প্যালিয়েটিভ কেয়ারকে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্তকরণের সুপারিশ করা হয়েছে, যার অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩.৮ এ উল্লিখিত সর্বজনীন পরিধি (ইউএইচসি) স্বজনের অন্যতম প্রধান অংশ এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগ ২০০৭ সাল থেকে এ সেবা প্রদান করে আসছে। বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, দিবা সেবা, রেজিস্টার্ড রোগীদের জন্য ২৪ ঘন্টা টেলিফোন সার্ভিস, বিনামূল্যে গৃহ সেবা প্রদানসহ করাইল এবং নারায়ণগঞ্জে কমিউনিটি লেভেলে জনসাধারণের মাঝে এই সেবা নিশ্চিত করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগ। এ ছাড়াও প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসক, নার্স, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সহকারী (পিসিএ), স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি রোগীর পরিবার বা পরিচর্যাকারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।