২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৭:৪৮ পিএম

তৃতীয় প্রফে সব বিষয়ে অনার্স মার্ক পেলেন ডিএমসির ৩ শিক্ষার্থী

তৃতীয় প্রফে সব বিষয়ে অনার্স মার্ক পেলেন ডিএমসির ৩ শিক্ষার্থী
আনিকা তাহসিন তাসু, ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা ও প্রসেনজিৎ নাগ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) থেকে ৪৯ জন শিক্ষার্থী অনার্স মার্ক পেয়েছেন। এরমধ্যে সব বিষয়ে অনার্স মার্ক পেয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন- ডিএমসির কে-৭৬তম ব্যাচের আনিকা তাহসিন তাসু, ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা ও প্রসেনজিৎ নাগ।

এর আগে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) মেডিকেল কলেজগুলোর ২০১৮-১৯ সেশনের ফলাফল প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিভিন্ন মেডিকেলের ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী অনার্স মার্ক পেয়েছেন। আর ডিএমসি থেকে অনার্স মার্ক পাওয়াদের মধ্যে ফার্মাকোলজিতে ৪০টি, মাইক্রোবায়োলজিতে ২৮টি ও প্যাথলজি বিষয়ে ৫টি, সবমিলিয়ে ৪৯ জন শিক্ষার্থী অনার্স মার্ক পেয়েছেন।

কৃতি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

পিতা-মাতা, শিক্ষক এবং বন্ধুদের সহযোগিতায় এতো ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে ডিএমসির আনিকা তাহসিন বলেন, ‘আমি যতটুকু প্রত্যাশা করেছি, তার চেয়েও ভালো ফলাফল অর্জন করেছি। আমি আসলে ভাবিনি, এতো ভালো ফলাফল করবো।  এখন অনেক অনেক ভালো লাগছে, আমি অনেক বেশি খুশি হয়েছি। এটি সম্ভব হয়েছে, আমার পিতা-মাতা, শিক্ষক এবং বন্ধুদের সহযোগিতার কারণে। তাঁরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।’

ফাবিহা ফেরদৌস বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষ উঠে যখন মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি ও ফার্মাকোলজির মতো প্রিয় সাবজেক্টগুলো পড়তে খুব ভালো লাগতো। চতুর্থ বর্ষে অনেক চাপ ও পরীক্ষা ছিল। এরপরও চতুর্থ বর্ষের প্রথম থেকেই পড়তে ভালো লাগতো। আর আমি যেমন- ডিএমসিতে আসার আগে স্বপ্নে দেখতাম, আমি ডিএমসিতে ক্লাস করতেছি। এরকম আশা ছিল, তিনটা সাবজেক্টেই ভালো করবো এবং চতুর্থ বর্ষের উঠার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতাম তৃতীয় প্রফের সবগুলো বিষয়ে অনার্স মার্ক পাবো। এখন স্বপ্নটা সত্যি-ই হয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, ‘পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমি স্যারদের লেকচার অনুসরণ করতাম। আর লেকচারে যে বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হতো, সেগুলো মূল বই, বন্ধু এবং স্যারদের সাথে আলোচনা করে নিতাম। পাশাপাশি বিগত প্রফে যেসব প্রশ্ন এসেছে, সেগুলো গুছিয়ে রেডি করে রাখতাম। আমাদের স্যাররাও অনেক সহযোগী ছিল।’

প্লেস কিংবা অনার্স নয়, ভালো কিছুর প্রত্যাশা করার পরামর্শ

প্লেস কিংবা অনার্স মার্কের জন্য নয়, ভালো কিছু করার প্রত্যাশায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এবিষয়ে ফাবিহা ফেরদৌস বলেন, ‘যারা অনার্স পেতে চায় বা ভালো ফলাফল করতে চায়, তাদের আগে থেকে এরকম ধারণা রাখা উচিত না। এ কারণেও শিক্ষার্থীরা হতাশায় পড়তে পারে। অনার্স কিংবা প্লেসের জন্য পড়াশোনা নয়, ভালো কিছু করার উদ্দেশ্য পড়াশোনা করতে হবে।’

প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, ‘প্রফে অনার্স পেতে হবে, এটি বাধ্যতামূলক নয়। নিয়মিত পড়তে হবে, শিখতে এবং ভালো কিছু করতে। যাতে পরবর্তী ফেইজগুলো সহজ হয়ে যায়।’

আনিকা তাহসিন বলেন, ‘মেডিকেলে পাস করাই যথেষ্ট এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকা উচিত। কারণ একজন শিক্ষার্থীকে ৬০ শতাংশ নাম্বার তুলতে যে পরিমাণ পড়াশোনা এবং কষ্ট করতে হয়, যারা প্রফ দেয়, তারা বলতে পারে কত কঠিন।’

মেডিকেল কারিকুলাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

সেই সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হতাশা এবং চাপমুক্ত রাখতে কারিকুলাম সংযোজন ও বিয়োজন করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে আনিকা তাহসিন বলেন, ‘কম সময়ে অনেক বড় সিলেবাস শিক্ষার্থীদের শেষ করতে হয়। এতে অনেক চাপের মধ্যে পড়ে যায়। অনেক সময় মৌলিক চাহিদাগুলোও ত্যাগ করতে হয়। বিশেষ করে আমার মতো যাদের শিখতে অনেক সময়, তাদেরকে অনেক কষ্ট করতে হয়।’

ফাবিহা ফেরদৌস বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো প্র্যাকটিক্যালের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়,আর আমাদের দেশের এমবিবিএসের সিলেবাসে থিউরির উপর বেশি দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞানের উপর আমাদেরও গুরুত্ব বাড়ানো উচিত।’

প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, ‘প্রতিদিন সময় ২৪ ঘণ্টা, বেশির ভাগ সময় ওয়ার্ড কিংবা ক্লাসে চলে যায়। নিজের জন্য সময় খুব কম পাওয়া যায়। নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সময় একেবারেই কম পাওয়া যায়। মেডিকেলের শিডিউল অনেক কঠিন।’

দেশের মানুষের সেবা

ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ঢাকা মেডিকেলের এ শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে ফাবিহা বলেন, ‘বাংলাদেশে থাকার ইচ্ছা আছে। নিজ দেশে রোগী দেখার মধ্যে যে, আনন্দ এটি বিদেশ গিয়ে পাওয়া যাবে না। যদিও বিদেশে বেতন-ভাতা অনেক বেশি এবং উন্নত জীবন যাপন করা যায়। আগে বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এটা কিছুটা কমে গেছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি।’

প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, ‘ইন্টার্ন শেষ করার পর বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছা। উপজেলা লেভেলে কাজ করারও ইচ্ছা আছে। আমার অনেক আগ্রহ গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করবো। আমাদের এলাকার মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায় না, রোগীরা যাতে সঠিক চিকিৎসা পায়।’

এসএএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডিএমসি
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক