সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাইলফলক অর্জন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিনামূল্যে ৫০ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ৫০তম সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে এই হাসপাতাল একটি নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে।
জানা যায়, গত ২১ জুন প্রথমবারের মতো ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগী ভর্তি করা শুরু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আরেফিন আজিমের তত্ত্বাবধানে মাত্র দুই মাসে প্রায় ৫০টি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা পেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, এরআগে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ফটিকছড়ি থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো, যা রোগীদের জন্য কষ্টকর ও ব্যয় সাপেক্ষ ছিলো। বর্তমানে রোগীরা বিনামূল্যে এই সেবা পাচ্ছেন। এতে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু কমছে একই সঙ্গে রোগীদের দুর্ভোগও কমেছে।
জানতে চাইলে আজ বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরেফিন আজিম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘২১ জুনের আগে এই হাসপাতালে কখনই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা হতো না। এরআগে এই রোগী আসলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতো। কিন্তু ২১ জুন থেকে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা আমরা শুরু করেছি। এখান থেকে আর কোথাও রোগী রেফার করা হয় না।’
তিনি বলেন, ‘সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এন্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালে মজুদ রাখা আছে। যাতে কালক্ষেপণ না করে মুহূর্তেই রোগীর চিকিৎসা শুরু করা যায়।’
ডা. আরেফিন আজিম বলেন, ফটিকছড়ি এলাকায় চা বাগান ও পাহাড় আছে। এজন্য এখানে সাপে কাটা রোগীও বেশি। সাপে কাটা রোগীদের কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
সাপে কাটা ক্ষতস্থান নড়াচড়া না করানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষতস্থানে শক্ত করে বাঁধা যাবে না, আবার খুব ঢিলেঢালাভাবেও বাঁধা যাবে না। বেশি শক্ত করে বাঁধ দিলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।’
টিআই/এএইচ/