১৩ অগাস্ট, ২০২৩ ০৭:৩৩ পিএম

প্রকৃত চিকিৎসকদের অফিস টাইম নেই: অধ্যাপক প্রাণ গোপাল

প্রকৃত চিকিৎসকদের অফিস টাইম নেই: অধ্যাপক প্রাণ গোপাল
বিএসএমএমইউর এ-ব্লক মিলনায়তনে ‌‘কমিউনিকেশন স্কিল অ্যান্ড ডক্টর পেশেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রকৃত চিকিৎসকদের কোনো অফিস টাইম নেই বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বলেন, প্রয়োজনের আলোকে যতক্ষণ সম্ভব রোগীদেরকে সময় দিতে হবে।

আজ রোববার (১৩ আগস্ট) বিএসএমএমইউর এ-ব্লক মিলনায়তনে ‌‘কমিউনিকেশন স্কিল অ্যান্ড ডক্টর পেশেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে কি নোট স্পিকার হিসেবে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকরা মানবসেবায় নিবেদিত। রোগীর সেবার সময় চিকিৎসককে সব ধরনের নীতি অবলম্বন করতে হবে। রোগীর প্রাইভেসি নিশ্চিত করাও একজন চিকিৎসকের বড় দায়িত্ব।

প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, আগে রোগীরা চিকিৎসকদের কাছে এসে বলতেন, উপরে আল্লাহ্ আর নিচে আপনি (চিকিৎসক)। অর্থাৎ চিকিৎসকদের প্রতি রোগীরা ছিলেন আস্থাশীল। কিন্তু বর্তমানে আমরা চিকিৎসকরা সে জায়গা থেকে অনেক দূরে সরে আসছি। এটি শুধু আমাদের (চিকিৎসক) ভুল নয়। বর্তমানে রোগীরা চিকিৎসকদের কাছে যা কিছু প্রত্যাশা করেন তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলে সহযোগিতা না করলে চিকিৎসকরা কখনোই পূরণ করতে পারবেন না।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের মত করে যদি সারাদেশে রোগীকে কনসালটেন্সি করা যেত তাহলে রোগী ও তার স্বজনদের কোন অভিযোগ থাকত না। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৩ ঘণ্টায় ২০ জনের বেশী রোগী দেখা হয় না এবং রোগী প্রতি চিকিৎসকে কমপক্ষে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করতে হয়। হাসি মুখে রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। রোগী কেমন আছেন, কি চায়, কি সমস্যা নিয়ে আসছে এসব বিষয় চিকিৎসককে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন বলেন, ‘চোখের চিকিৎসকদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসার সুযোগ কম হয়। কারণ চোখের চিকিৎসায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন কম হয়, এজন্য চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম দেন। কমিশন সকল চিকিৎসক নেন না। অল্পকিছু চিকিৎসক কমিশন গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে সকল চিকিৎসকের বদনাম হয়। আমরা চিকিৎসকরা কখনো কোন কমিশন নেবো না, আসুন আজ থেকে শপথ গ্রহণ করি।’

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যদি  রোগীর প্রতি ভাল ব্যবহার করি, রোগীর সহানুভূতিশীল ও সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারি, আমরা যদি চিকিৎসকের মহৎ পেশাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে আমাদেরকে আরও ভাল হতে হবে। রোগীর সেবায় রোগীকে আমাদের পরিবারের সদস্যের মত  ভেবে সেবা করতে হবে। তাহলে কোন রোগী বলবে না যে, আমরা তাদেরকে ঠিক মত দেখি না। সততা, ডিসিপ্লিন, টাইম মেইনটেনিং আমাদের জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন)  অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট্রাল সাব কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়াও সেমিনারে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান,  বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক,  কনসালটেন্ট, চিকিৎসক  ও রেসিডেন্টগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনোরোগবিদ্যা বিভাগরে সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাতিমা জোহরা।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত