৮ দফা দাবিতে পাবনা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ৮ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পাবনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মেডিকেল ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ: ১. পাবনা মেডিকেল কলেজে ৩টি নিজস্ব বাসের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। ২. হোস্টেল ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. কলেজ গেট নির্মাণ, কলেজের সামনের রাস্তা সংস্কার ও গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ দূরীকরণ করতে হবে। ৪. হোস্টেলের ভিতরের জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে। ৫. হোস্টেলে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. হোস্টেলের বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যা সমাধান করতে হবে। ৭. ডাইনিংয়ে স্থায়ী ভর্তুকির ব্যবস্থাকরণ এবং ৮. স্থায়ী খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, পাবনা মেডিকেল কলজের নিজস্ব হাসপাতাল নেই। তাঁদেরকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ওয়ার্ড করতে হয়। আবার মেডিকেলের নিজস্ব কোনো পরিবহনও নেই, চুক্তি করে বাস ভাড়া করা হয়। গত ৩০ জুনের পর থেকে ভাড়া করা বাসের সেবাও বন্ধ রয়েছে। এতে তাদের দীর্ঘ ভোগান্তি ও পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এসব দাবি নিয়ে কথা বলেছেন, মেডিকেল কর্তৃপক্ষ তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। যার কারণে তারা ক্লাস-ওয়ার্ড বর্জন করেছেন। এর আগেও তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ করা হয়নি। শুধু ভোগান্তি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
জানতে চাইলে পাবনা মেডিকেলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া সারমিন শান্তা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদেরকে ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ওয়ার্ড করার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়, মেডিকেলের পরিবহন সেবা বন্ধ থাকার কারণে সেখানে যেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ক্যাম্পাসে বাহিরের টিকটকার-বখাটে ছেলেরা এসে মেডিকেলের মেয়েদেরকে বিরক্ত করে, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাতে তো বের হওয়া যায়-ই না এবং বিকালে বের হতেও বখাটেদের ভয় থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেলে এতো বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট, যা বলার মতো নয়। ফলে আমাদের পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। হোস্টেলের খাবারের মানও ভালো না, ভর্তুকির ব্যবস্থা করে খাবারের মান ভালো করতে হবে। পরিবহন সংকটেরও সমাধান দ্রুত করতে হবে।’
আরেক শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ আকাশ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মেডিকেলের নিজস্ব কোনো পরিবহন নেই, কিছুদিন পর পর চুক্তি করে বাস ভাড়া করা হয়। এ বছর আমরা কোনো বাস পাচ্ছি না, অনেক দিন ধরে বাস সেবা বন্ধ। হাসপাতালে শহরের ভিতর দিয়ে যেতে হয়, এতে অনেক যানজট থাকে। একসাথে অনেক শিক্ষার্থী ওয়ার্ডে ক্লাস করার জন্য বের হয় এবং মেডিকেলের নিজস্ব পরিবহন না থাকার কারণে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। রাস্তায় পর্যপ্ত পরিমাণে পরিবহন পাওয়া যায় না। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাড়া দিয়ে ওয়ার্ড করতে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক কষ্ট ও ভোগান্তি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর ধরে যে হোস্টেল নির্মাণ করা হচ্ছে, এর মধ্যে একটার দুই তলা পর্যন্ত করা হয়েছে, আরেকটা তিন তলা পর্যন্ত করে কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ ছয় তলা ফাউন্ডেশন করা হয়েছে। দ্রুত শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা সমাধান করতে হবে।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল্লাহ ইবনে আলী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি করেছে, তারমধ্যে হলো- বিদ্যুতের ডুয়েল লাইন দিতে হবে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে, সেখান থেকে বলা হয়েছে, সরকার যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই নিতে হবে। কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো হলো গণপূর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন-বাউন্ডারির ওয়াল করতে হবে, দৃষ্টিনন্দন গেইট করতে হবে। এইগুলো নিয়ে গণপূর্তকে লিখিত দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মূল দাবি যেটা ছিল, সেটা হলো- বাস সংকট। সরকারের পক্ষ থেকে মেডিকেলকে এখনও নতুন বছরের বাজেট দেওয়া হয়নি, বাজেট আসলে শিক্ষার্থীদেরকে বাসের সেবা দিতে পারবো। আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। বাজেটের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য মেডিকেলের পক্ষ থেকে ঢাকাতে লোকও পাঠানো হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাস ছিল, ২০ দিন ধরে বাস নেই।’
অধ্যাপক ডা. উবায়দুল্লাহ ইবনে আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের দাবি পূরণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানাবো, তাতে না হলে পুলিশ সুপারকে জানানো হবে।’
‘তোমরা ক্লাস কেন বর্জন করছো, আমার কাছে আসতে পারো, স্মারকলিপি দিতে পারো। ক্লাস যদি বর্জন-ই করতে হয়, তাহলে বাসে করে যেই ক্লাসে যেতে হয়, সেটা বন্ধ করো। শিক্ষকরা বলেছেন, মূল ভবনে ক্লাস নিবেন। তারা বলে হাসপাতালের ক্লাসেই প্রকৃত ক্লাস, শিক্ষকরা বলছেন, না। শিক্ষকরা বলছেন, হাসপাতালেও একটা রুমে পড়াই, এখানেও আমরা একটা রুমে পড়াবো। ওয়ার্ডের রোগী আপাতত কিছু দেখা হলো না,’ যোগ করেন অধ্যক্ষ।
এসএএইচ/ এএইচ/
-
২৩ জুলাই, ২০২৩
-
২০ জুলাই, ২০২৩
-
১৭ নভেম্বর, ২০২১