স্ত্রীর মামলা থেকে বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকের অব্যাহতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাইবার ক্রাইম আইনে চিকিৎসক স্ত্রীর দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ফয়সাল আল শামস মালিক (৩৫)। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সাইবার ট্রাইব্যুনালের ঢাকার বিচারক এ.এম জুলফিকার হায়াত এ রায় দেন।
বিবাদী পক্ষের কৌঁসুলি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল আজ বুধবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মেডিভয়েস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বারডেম হাসপাতালের জনপ্রিয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাবেক চিকিৎসক স্ত্রীর মিথ্যা ও বানোয়াট সাইবার ক্রাইমের মামলায় বিজ্ঞ সাইবার ট্রাইবুনাল ঢাকা, অভিযুক্ত চিকিৎসককে অব্যাহতি দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই বছরের হয়রানির অবসান হয়েছে।’
অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল জানান, দাম্পত্য জীবনে কলহের জেরে ডা. নাদিয়া মুহাম্মদকে (৩০) তালাক দেন ডা. ফয়সাল আল শামস মালিক।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ডা. নাদিয়া স্বামীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯/৩৬/৩৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডা. ফয়সাল আল শামস মালিক (৩৫) ও তার বোন তাজরিয়া মালিককে (২২) আসামি করা হয়।
ডা. ফয়সাল আল শামস মালিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। এর পর থেকেই জামিনে ছিলেন ডা. ফয়সাল।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘ডা. ফয়সাল আল শামস মালিক এবং তার বোন তাজরিয়া মালিকের (২২) সহযোগিতায় বাদীর ফেসবুক আইডি ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে হ্যাকিং করিয়া ফেসবুক আইডিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। পরে সেখানে সংরক্ষিত তথ্য পরিবর্তন করিয়া তার ক্ষতি সাধন করে। ডা. ফয়সাল আল শামস মালিক মিথ্যা অপবাদ দিয়া আত্মীয়-স্বজনের নিকট চরিত্রগত অপবাদ দিয়ে বাদীকে তালাক প্রদান করিয়াছে।’
অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল বলেন, ‘শুধু ডিভোর্স দেয়ার কারণে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন হ্যাকিংয়ের অভিযোগ, এটি অগ্রহণযোগ্য। তদন্ত কর্মকর্তা এমন অপরাধের ফরেনসিক ল্যাবরেটরির রিপোর্টও দিতে পারেননি। অথচ হ্যাকিংয়ের অভিযোগের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য উৎস।’
তিনি বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদান করতে না পারায় হ্যাকিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই ডা. ফয়সাল আল শামস মালিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে বাদীপক্ষে কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সাজিদুল ইসলাম ভুঁইয়া জাদু এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল উপস্থিত ছিলেন।