১৯ জানুয়ারী, ২০২৩ ০৩:৩৯ পিএম

মরণোত্তর অঙ্গদানে দুই দেহে জীবন ও দুইজনের চোখে আলো

মরণোত্তর অঙ্গদানে দুই দেহে জীবন ও দুইজনের চোখে আলো
অপারেশনে নেতৃত্বদানকারী ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল জানান, যে চারজন রোগীর শরীরে মৃত সারা ইসলামের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সবার অবস্থা উন্নতির দিকে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ২০ বছর বয়সী সারা ইসলামের মৃতদেহ থেকে দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া সফলভাবে চারজনের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আর এতে কিডনি বিকল দুইজনের জীবন সুরক্ষা ও দুইজনের চোখে আলো ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় একটি যুগান্তকারী অর্জন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, গতকাল বুধবার রাতে ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে নেফ্রোলজি এবং এ্যানেসথেসিয়া, এনালজেসিয়া এবং ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক বা ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়। দুরারোগ্যে ব্যাধিতে আক্রান্ত ২০ বছর বয়সী সারা ইসলামের মৃতদেহ থেকে দুটি কিডনি দুজন কিডনি বিকল রোগীর দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দুটি কর্নিয়াও নেওয়া হয় সারা ইসলামের দেহ থেকে।

তিনি আরও বলেন, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশীয় বণিক ও অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিকের নেতৃত্বে সিনিয়র এনেসথেসিওলজিস্টগণ জটিল এ অপারেশন পরিচালনা করেন। সারা ইসলামের দুটি কিডনির একটি মিরপুরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী শামীমা আক্তারের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। বিএসএমএমইউর কিডনি অপারেশন থিয়েটারে তার অস্ত্রোপচার হয়।

একই সঙ্গে অপর কিডনিটি কিডনি ফাউন্ডেশনে অপর এক রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

অপারেশনে নেতৃত্বদানকারী ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল জানান, যে চারজন রোগীর শরীরে মৃত সারা ইসলামের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সবার অবস্থা উন্নতির দিকে।

জানা যায়, শিক্ষিকা মাতা শবনম সুলতানা এবং পিতা শহীদুল ইসলামের জেষ্ঠ সন্তান সারা ইসলাম। সারা ইসলামের একটি ছোট ভাই আছে। অঙ্গদাতা সারা ইসলাম জন্মের মাত্র ১০ মাস বয়সে দুরারোগ্য টিউবেরাস স্ক্লেরোসিস রোগে আক্রান্ত হন। তিনি এ রোগ নিয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে লড়াই করে গেছেন। এ লড়াই করার পথ পরিক্রমায় সারা ইসলাম অগ্রণী গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেভলভমেন্ট আল্ট্রারনেটিভে (ইউডা) ফাইন আর্টসে ভর্তি হন। সারা ইসলাম ফাইন আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএমএমইউর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রয়াত সারা ইসলামের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শরীক হন। সকলে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এরপর তাকে পারবারিকভাবে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত