প্রথম বাংলাদেশি আয়রনম্যান চিকিৎসক সাকলায়েন রাসেল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসক হিসেবে ‘আয়রনম্যান ৭০.৩ লংকাউই’ প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন ডা. সাকলায়েন রাসেল। শনিবার (৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় এ সাফল্য পান তিনি।
স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় নিজের জয়ের খবর জানান ডা. সাকলায়েন।
তিনি বলেন, ‘হ্যালো বাংলাদেশ, মালয়েশিয়ায় ‘আয়রনম্যান ৭০.৩ লংকাউই’ প্রতিযোগিতা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন, আপনার প্রথম আয়রন ডাক্তার ...!’
সকাল ৭টায় সমুদ্র সাঁতার দিয়ে প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। পরে সাইকেল ও সর্বশেষ দৌড়ের মাধ্যমে শেষ হয় এই প্রতিযোগিতা।
এর মধ্যে ১.৯ কিলোমিটার সমুদ্র সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ২১.১ কিলোমিটার দৌড়ানো। অর্থাৎ বিরামহীনভাবে সাত ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় এই প্রতিযোগিতায়।
এবারই প্রথম বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ জন বাংলাদেশি অপেশাদার ক্রীড়াবিদ (ট্রায়াথলেট) অংশ নেন। এর মধ্যে আছেন একজন বাংলাদেশে বসবাসকারী আমেরিকান নারীও। এতে অংশ নেন বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রায় তিন হাজার প্রতিযোগী।
সকাল সাতটায় শুরু হয় ‘আয়রনম্যান ৭০.৩ লংকাউই’ এবং সাড়ে সাতটায় হয় ‘আয়রনম্যান মালয়েশিয়া’ প্রতিযোগিতা।
সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়ের সমন্বিত খেলার নাম ট্রায়াথলন। পৃথিবীতে ট্রায়াথলেট বা ট্রায়াথলনের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতা হলো আয়রনম্যান। দূরত্বের হিসাবে বিভিন্ন সংস্করণে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে আয়রনম্যান প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে।
পূর্ণাঙ্গ আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের জন্য থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ। ৭০.৩ আয়রনম্যানকে বলা হয় অর্ধদূরত্বের আয়রনম্যান। সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি বিষয়ে অর্ধেক দূরত্ব পেরোনোর চ্যালেঞ্জ থাকে আয়রনম্যান ৭০.৩ ইভেন্টে।
বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা ট্রায়াথলেটদের মধ্য থেকে বাছাইকৃতদের নিয়ে হয় আয়রনম্যানের সর্বোচ্চ আসর আয়রনম্যান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ।
ডা. সাকলায়েন রাসেল ছাড়াও আয়রনম্যান ৭০.৩ লংকাউইতে অংশ নেওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন- গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশতিয়াক উদ্দিন।
এ ছাড়া আয়রনম্যান মালয়েশিয়ায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত, সফটওয়্যার উদ্যোক্তা ইমতিয়াজ ইলাহী, সফটওয়্যার নির্মাতা মুনতাসীর সামি, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিশু বিশ্বাস, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাশ, সিটি ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ও বাংলালিংকের সফটওয়্যার প্রকৌশলী শুভ দে।