০৫ নভেম্বর, ২০২২ ০৮:৫৭ পিএম

কিংবদন্তি চিকিৎসক এম আর খানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কিংবদন্তি চিকিৎসক এম আর খানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
একই দিন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কাসেম এবং বিএসএমএমইউর প্যাথলজির অধ্যাপক ডা. ফারুক এ আজীম।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাতীয় অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম আর খানের (মোহাম্মাদ রফি খান) ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর মারা যান তিনি।

একই দিন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কাসেম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্যাথলজির অধ্যাপক ডা. ফারুক এ আজিম। তিনজনই ছিলেন প্রথিতযশা শিক্ষক ও চিকিৎসক।

এম আর খানের জন্ম ১৯২৮ সালের ১ আগস্টে সাতক্ষীরা জেলায়। বাবা আলহাজ্ব আব্দুল বারী খান, মা জায়েরা খানম। মায়ের হাতেই তাঁর পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়।

১৯৪৩ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি কলকাতায় যান। ভর্তি হন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৯৪৫ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৪৬ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫২ সালে এমবিবিএস পাস করার পর সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর ১৯৫৬ সালে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ব্রিটেনের এডিনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনে ভর্তি হন। সেখান থেকে একই সালে ডিপ্লোমা ইন ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন (ডিটিএমএন্ডএইচ) ডিগ্রি লাভ করেন। স্কুল অব মেডিসিন লন্ডন থেকে তিনি ডিপ্লোমা ইন চাইল্ড হেলথ (ডিসিএইচ) ডিগ্রিও লাভ করেন। ১৯৬২ সালে 'এডিনবার্গের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান' থেকে তিনি এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ফেলো অব কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জন (এফসিপিএস) এবং ১৯৭৮ সালে এডিনবার্গ থেকে ফেলো অব রয়েল কলেজ অ্যান্ড ফিজিশিয়ানস (এফআরসিপি) ডিগ্রি লাভ করেন।

অধ্যাপক ডা. এম আর খান এ দেশে শিশু রোগ চিকিৎসার একজন পথিকৃৎ। তিনি ধৈর্য ধরে রোগীর সব কথা শুনতেন এবং সময় নিয়ে ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন করতেন। ওষুধ লিখতেন কম, কাউন্সেলিং করতেন বেশি।

ডা. এম আর খান তার পেনশনের টাকা দিয়ে গড়ে তুলেন ডা. এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। দুস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ শিশুমৃত্যু হার হ্রাস পাওয়া। আর এর পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল সম্প্রসারিত টিকা কার্যক্রমের  আর শিশুদের এদেশে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সূচনা করার অন্যতম পথিকৃৎ জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান। 

এনাটমির শিক্ষক অধ্যাপক ডা. আবুল কাসেম ছিলেন ১৯৭৬-৭৭-৭৮ মেয়াদে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ এবং নিষ্ঠাবান। বর্ণাঢ্য জীবনে ‘কাজল লতা’ নামে একটি সিনেমার স্পন্সর ছিলেন তিনি। এ সিনেমার প্রতিপাদ্য ছিল একজন ডাক্তার মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করার পর গরিব মানুষদেরকে চিকিৎসাসেবা দেবার জন্য শহর ছেড়ে এক পল্লী গ্রামে চলে যান এবং সেখানেই বসবাস করেন। তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীর গ্রাম পছন্দ নয়। স্বামীকে ফেরাতে না পেরে একাকী ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু ডাক্তার সাহেব গ্রামের মায়া, গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা দেবার আনন্দ (উপচিকীর্ষা) ছেড়ে আর কোথাও যেতে চান না। গরিব মানুষকে সুস্থ করে তোলার ইচ্ছার কাছে সুখী জীবন, অর্থের প্রলোভন সব কিছুই হার মানে। এভাবে কাটতে থাকে অনেক বছর। জীবনের অপরাহ্ণে এসে ডাক্তার-পত্নী নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং গ্রামে স্বামীর কাছে ফিরে আসেন।

একই দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্যাথলজির অধ্যাপক ডা. ফারুক এ আজিম (৭৪)। রাজধানীর বারডেম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

অধ্যাপক ফারুক এ আজিম কর্মজীবনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিএসএমএমইউতে প্যাথোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক