ইউএইচএফপিওর বিরুদ্ধে ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে সরকারি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোছা. সেলিনা আক্তার বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার (২৭ জুলাই) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় মেডিভয়েসকে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ডা. মোছা. সেলিনার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনার তদন্তের জন্য সিভিল সার্জনকে নিয়ে একটি টিম গঠন করেছি। সিভিল সার্জনসহ একটি দল তদন্তে গিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. সেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি নিজেও আগামী সপ্তাহে ঘটনাস্থলে যাবেন। তদন্তের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. সেলিনা হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ বাবদ ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিও ২০২১-২২ অর্থ বছরের সরকারি ২ লাখ টাকার কোনো কাজ হয়েছে—মর্মে অবগত নন। টাকা উত্তোলনের জন্য রাজকুমার দাস ওরফে রাজকুমার চৌধুরীরর স্বাক্ষর জালিয়াতি করছেন তিনি।
অভিযোগকারী রাজকুমার চৌধুরী উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের মৃত রাজেন্দ্র চৌধুরীর ছেলে।
তিনি বলেন, ‘ডা. সেলিনা সরকারি টাকা উত্তোলন করেছেন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু তিনি আমাকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেখিয়েছেন। এতে আমাকে সমাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তাই তাঁর (ডা. সেলিনা আক্তার) বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ করেছি।’
একটি অভিযোগ করা হয়েছে, সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর। আরেকটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুপুরে সাড়ে ১২টায় শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোছা সেলিনা আক্তারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে আছি, এক ঘণ্টা পরে কথা বলবো। এক ঘণ্টা পর ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এভাবে কয়েক ঘণ্টা অতিক্রম হয়। পরবর্তীতে আবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আর ধরেননি।’
এএইচ/এমইউ