মৃত চিকিৎসকের নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ওটি বয়ের ‘ডাক্তারি’!
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চিকিৎসক শাম্মির শাকিরের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কলেজ কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে রোগী দেখছিলেন নিরব নাহিয়ান নামে এক ব্যক্তি। মূলত তিনি অস্ত্রোপচারকক্ষের (ওটি) বয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিএমডিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধন নম্বর ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে চিকিৎসকের নাম, ছবি, ঠিকানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, ডিগ্রি ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য বিএমডিসির ওয়েবসাইটে থাকে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় চিকিৎসক শাম্মির শাকির মারা যান। তায়রুননেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন এই চিকিৎসক। শাম্মির শাকিরের বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর (৭০১৩৯)। ওই নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে বিএমডিসির ওয়েবসাইটে নিরব নাহিয়ানের ছবি ছিল। এই নম্বর ব্যবহার করে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় লাইফ কেয়ার হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন নিরব নাহিয়ান। তিনি নিজেকে মেডিসিন, বাতব্যথা ও জেনারেল সার্জারি বিষয়ের চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজ বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. মো. আরমান হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে বিএমডিসির ওয়েবসাইটে নিরব নাহিয়ানের নিবন্ধনের পরিচয়টি বন্ধ করা হয়েছে। কিভাবে এটা করলো বলতে পারবো না। এর আগে এ রকম ঘটনা আরও ঘটেছে। তবে এটি কিভাবে হচ্ছে, এটি বুঝতে পারছি না। এটা তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না। এটার তদন্ত কারা করবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা তদন্ত করবো।’
ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে কি কি লাগে জানতে চাইলে ডা. মো. আরমান হোসেন বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে এমবিবিএস পার করার পর ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য এক বছরের জন্য অস্থায়ী নিবন্ধন দেওয়া হয়। পরে স্থায়ী নিবন্ধনের জন্য ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ সনদ ও এমবিবিএস এর প্রকৃত সনদ, রেজিস্ট্রেশন ও ফটোকপি, প্রশংসাপত্রের মূল কপি ও ফটোকপি, বিএমডিসিতে ব্যাংক ড্রাফট, পে অর্ডার, ক্যাশ পরিশোধের নথিপত্র, মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত করা তিনটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ, নিবন্ধন কার্ডের আসল ও ফটোকপি, টিআইএন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। পরে বিএমডিসি থেকে ওই শিক্ষার্থীকে এসএমএসের মাধ্যমে সকল মূল কাগজপত্রসহ বিএমডিসিতে সরাসরি সাক্ষাত করতে বলা হয়। পরে সেগুলো যাচাই-বাচাই করা হয়। পুনরায় যাচাই-বাচাই করা হয়। কারণ, আবেদনকারী যেগুলো অনলাইনে জমা প্রদান করেছে, সেগুলোর সাথে মূল কাগজপত্রের সাদৃশ্য রয়েছে কিনা, নাকি ভূয়া কাগজ জমা প্রদান করেছে। পরে সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদনকারীকে বিএমডিসি থেকে সাময়িক একটি নম্বর দেওয়া হয়, যা বিএমডিসিতে ফেরত দিয়ে সেখান থেকে স্থায়ী নিবন্ধন নম্বর নিতে হয়।
-
২১ এপ্রিল, ২০২৬
বিএমডিসির নিবন্ধন জালিয়াতি
পিরোজপুরে ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের দুই বছরের সাজা
-
২১ নভেম্বর, ২০২৫
-
২৫ জানুয়ারী, ২০২৫
-
১৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৯ মার্চ, ২০২৪
-
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩
-
০৩ অক্টোবর, ২০২৩