১৭ জুলাই, ২০২২ ০৬:৩৬ পিএম

মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমোদন পেলো বঙ্গভ্যাক্স

মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমোদন পেলো বঙ্গভ্যাক্স
ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, মানবদেহে ট্রায়াল শুরু করতে ২-৩ মাস সময় লাগবে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী দেশে তৈরি ‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

আজ রোববার (১৭ জুলাই) বিকেলে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আজই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের অনুমোদন দিয়েছে।’ 

কখন থেকে এই ট্রায়াল শুরু করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানবদেহে ট্রায়াল শুরু করতে ২-৩ মাস সময় লাগবে। এর আগে আমরা অনেক উপকরণ কিনে রেখেছিলাম, যা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাচাঁমাল কিনতে হবে এবং সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ভ্যাকসিন তৈরি করবো। সেটা মূল্যায়ন হবে। এরপর ট্রায়াল কার্যক্রম শুরু হবে। আর এই ট্রায়ালে সময় লাগবে ৩৫ দিন। অর্থাৎ ট্রায়াল শুরু হলে ৩৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ভ্যাকসিন তৈরি করা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ৬০ জন ব্যক্তির ওপরে ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে।’ 

বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) নির্দেশনা অনুসারে, বানরের দেহে চালানো বঙ্গভ্যাক্স পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কিত প্রতিবেদন ২০২১ সালের ১ নভেম্বর বিএমআরসিতে জমা দেওয়া হয়। একই সাথে বিএমআরসির তৃতীয় ও সর্বশেষ চিঠির সকল প্রশ্নের জবাবও দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে বিএমআরসির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পূর্বশর্তসহ সকল পর্যবেক্ষণের যথাযথ উওর দেওয়া শেষ হয়। ২১ নভেম্বর বিএমআরসির ন্যাশনাল রিসার্চ এথিক্স কমিটির সভায় মানবদেহে বঙ্গভ্যাক্স পরীক্ষার নৈতিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং ২৩ নভেম্বর অনুমোদন দেয়া হয়। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমরা নৈতিক অনুমোদনের কপিসহ ২৫ নভেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করি। বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সুপারিশক্রমে চলতি বছরের ০৭ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার জন্য নির্দেশক্রমে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেন। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আজ রোববার (১৭ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে বঙ্গভ্যাক্সের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি প্রদান করেন।

ডেল্টার মতো অমিক্রনের বিরুদ্ধেও শতভাগ কার্যকর বঙ্গভ্যাক্স, বানরের পরীক্ষায় প্রমাণিত। এখন পর্যন্ত বিশ্বে অতি সংক্রমণশীল অমিক্রন-ডেল্টাসহ করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় ছিল। আমরা প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের সিকোয়েন্স অ্যানালাইসিস করে আমাদের ভ্যাকসিনের সিকোয়েন্স মিলিয়ে দেখেছি প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেই বঙ্গভ্যাক্স কার্যকর। যার প্রমাণ মিলেছে বানরের পরীক্ষায়। প্রাথমিক ফলাফলে আমাদের ভ্যাকসিনটি বানরে নিরাপদ এবং কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এরপর আমরা ভ্যাকসিনেটেড বানরে করোনাভাইরাসের অমিক্রন-ডেল্টাসহ অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট প্রয়োগ করে চ্যালেঞ্জ স্টাডি করেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি, আমাদের ভ্যাকসিনে বানরের দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, সেই অ্যান্টিবডি সাত দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাসকে নিউট্রালাইজ করতে পেরেছে। এতে প্রমাণিত হয়, আমাদের ভ্যাকসিন অতি সংক্রমণশীল ওমিক্রন-ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ সার্স-কোভ-২ এর যে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে সেগুলোকেও নিউট্রালাইজ করতে সক্ষম। অতএব, চুড়ান্ত ফলাফলে আমাদের ভ্যাকসিন বানরে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই উন্নত বিশ্ব করোনা মোকাবিলায় যে নতুন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন, আমরা গ্লোব বায়োটেক মনে করি, সেই নতুন ভ্যাকসিনটি হতে পারে বঙ্গভ্যাক্স। এমন অবস্থায় আমরা যৌক্তিকভাবে বিশ্বাস করি, বঙ্গভ্যাক্স টিকা বিশ্বকে এই করোনা সংকট থেকে উদ্ধার করবে। তাই আমরা যদি এ টিকা মানবদেহে পরীক্ষা শেষে বাজারে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে সারা বিশ্বে অমিক্রন-ডেল্টাসহ করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের যে মহামারি চলছে সেটা থেকে একমাত্র বঙ্গভ্যাক্সই পরিত্রাণ দিতে পারে বলে আশা করছি। কারণ, যেসব দেশে ইতোমধ্যে বিভিন্ন টিকা দেওয়া হয়েছে, সেসব দেশে বুস্টার ডোজ হিসেবেও বঙ্গভ্যাক্স দেওয়া যাবে । 

আমরা প্রথম ধাপে, ভ্যাকসিনেটেড বানরে ডেল্টাসহ অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট প্রয়োগ করে চ্যালেঞ্জ স্টাডি করেছিলাম। পরবর্তীতে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আবার উক্ত ভ্যারিয়েন্ট প্রয়োগ করে চ্যালেঞ্জ স্টাডি করেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি, আমাদের ভ্যাকসিনে বানরের দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, সেই অ্যান্টিবডি সাত দিনের মধ্যেই করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকেও নিউট্রালাইজ করতে পেরেছে । এতে প্রমাণিত হয়, আমাদের ভ্যাকসিন ডেল্টার মতো অতি সংক্রমণশীল ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেও সমান কার্যকর। বানর আর মানুষের মধ্যে জিনগত বেশ মিল থাকায় এবং বানরের পরীক্ষায় 'বঙ্গভ্যাক্স' সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায়, আমরা খুবই আশাবাদী যে 'বঙ্গভ্যাক্স' মানবদেহেও অনুরুপভাবে কাজ করবে ।

গ্লোব বায়োটেক কর্তৃক আবিষ্কৃত mRNA vaccine -কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউ এইচ ও) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে । 

আমাদের টিকাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর একটি ডোজেই এনিম্যাল ট্রায়ালে কার্যকর এন্টিবডি পাওয়া গেছে। আমরা আশা করছি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও অনুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে । এটি +৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস এবং -২০ ডিগি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। এটি সিন্থেটিক্যালি তৈরি হওয়ায় তা ভাইরাস মুক্ত এবং শতভাগ হালাল। আমরা যদি দ্রুততম সময়ে টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশবাসীর সেবায় বঙ্গভ্যাক্সকে উৎসর্গ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বদরবারে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক