পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকিতে ষাটোর্ধ্ব ৪০% মানুষ: বিএসএমএমইউ ভিসি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের ষাটোর্ধ্ব প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জন্য পারকিনসন্স দিবসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই বয়সী নারী-পুরুষের পারকিনসন্স রোগটি বেশি হয়।
আজ সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে বিশ্ব পারকিনসন্স দিবসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।
অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, দেশের ষাটোর্ধ্ব প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জন্য আজকের দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদেরই এ রোগটি বেশি হয়। এ ধরণের রোগীরা যদি হেলা করে, যদি বেশী করে সিগারেট খায়, তবে এটির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। তাই ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা নিয়মিত শারিরীক ব্যায়াম করবে, ডায়েট কন্ট্রোল করবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে। সেই সঙ্গে কাঁপুনি হওয়ার সাথে সাথেই নিউরোলজিস্টদের সাথে যোগাযোগ করবে এবং চিকিৎসা নিবে। বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার জন লোকের মধ্যে তিন জন লোক এ রোগে আক্রান্ত। এ রোগে যারা আক্রান্ত হয়েছেন; তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে চিকিৎসা নিন।
স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচক আন্তর্জাতিক মহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছর হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৭ বছর। গড়আয়ু বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন নিউরোডিজানেরেটিভ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পারকিনসন্স রোগ এগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তিনি বলেন, নিউরোলজিক্যাল রোগীদের সেবার জন্য ইতোমধ্যে স্ট্রোক সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেটি বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। যদি স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীরা সঠিক সময়ে এ সেন্টারে আসে, তবে তাদের জীবন রক্ষা করা করা যাবে। স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের সেবায় ভবিষ্যতে এয়ার এম্বুলেন্স চালু করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পারকিনসন্স রোগ প্রসঙ্গে মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার সোসাইটি অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও বিএসএমএমইউর নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাসান জাহিদুর রহমান জানান, পারকিনসন্স রোগ মস্তিষ্কের অসুখ। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের সাধারণত এ অসুখ হয়। ষাট বছরের নিচে কিছু লোক এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
তিনি জানান, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চলাফেরা ধীর গতি হয়ে যায়, কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। দৈনন্দিন কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করতে অসুবিধা হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে এবং নিয়মিত ওষুধ খেলে রোগী স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন। চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে রোগ বাড়তে থাকে, এক পর্যায়ে রোগী শয্যাশায়ী হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সবুজ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রাসেল, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা জোহুরা ও রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার বনিকসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।