‘দেশে প্রতি হাজারে ৩ জন পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে প্রতি এক হাজারে তিন জন পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে র্যালি, সচেতনামূলক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকের সামনে থেকে শুরু হয়ে টিএসসি, বটতলা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন বি ব্লকের সামনে শেষ হয়। র্যালি শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এ সময় অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, ষাটোর্ধ্ব মানুষের পারকিনসন্স বা কাঁপুনি রোগ হয়। এ ধরণের রোগীরা যদি হেলা করে, যদি বেশী করে সিগারেট খায়, তবে এটির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। তাই ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা নিয়মিত শারিরীক ব্যায়াম করবে, ডায়েট কন্ট্রোল করবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে। সেই সঙ্গে কাঁপুনি হওয়ার সাথে সাথেই নিউরোলজিস্টদের সাথে যোগাযোগ করবে এবং চিকিৎসা নিবে। বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার জন লোকের মধ্যে তিন জন লোক এ রোগে আক্রান্ত। এ রোগে যারা আক্রান্ত হয়েছেন; তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে চিকিৎসা নিন।
বিএসএমএমইউ ভিসি জানান, স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচকে আন্তর্জাতিক মহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আগে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর। এখন এদেশের মানুষের গড় আয় প্রায় ৭৩ বছর।
তিনি আরও জানান, নিউরোলজিক্যাল রোগীদের সেবার জন্য ইতোমধ্যে স্ট্রোক সেন্টার চালু করা হয়েছে। যেটি বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। যদি স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীরা সঠিক সময়ে এ সেন্টারে আসে, তবে তাদের জীবন রক্ষা করা করা যাবে। স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের সেবায় ভবিষ্যতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চালু করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘পারকিনসন্স রোগ: রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও সচেতনামূল ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার সোসাইটি অফ বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. হাসান জাহিদুর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. আহসান হাবীব হেলাল, সোসাইটি অফ নিউরোলজিস্ট অফ বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক বিএসএমএমইউ নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বিএসএমএমইউয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তপাদার, নিউজোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দে, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সবুজ, সার্জারি বিভাগের (অনকোলজি) সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রাসেল ও মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা জোহুরা প্রমুখ।