৩১ মার্চ, ২০২২ ০৭:২৩ পিএম

এমবিবিএস পরীক্ষা: প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে সম্পৃক্ততা মিললেই ব্যবস্থা

এমবিবিএস পরীক্ষা: প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে সম্পৃক্ততা মিললেই ব্যবস্থা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্ন ফাঁসসহ সকল বিশৃঙ্খলা রোধে সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত আছে। তাই প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান দিয়ে লাভ নেই। প্রতীকী ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠিত হবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার বহু প্রত্যাশিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রতি বছর সামাজিকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভর্তি পরীক্ষায় শতভাগ প্রশ্ন কমনের নিশ্চয়তা দিয়ে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্ন ফাঁসসহ সকল বিশৃঙ্খলা রোধে সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত আছে। তাই প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান দিয়ে লাভ নেই।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন আজ বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের গুজব পাওয়া গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে। তারা এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।’

পরীক্ষার দিন যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। জাতীয় এ রকম প্রতিটি বিষয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন ও আন্তরিক।’

প্রশ্ন ফাঁসের সকল রন্ধ্র বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির মেডিভয়েসকে বলেন, শেষ সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের ধোঁয়া তুলে হয় তো কেউ টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করবে। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবে। সুতরাং অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা পরিহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হলে শিক্ষার্থীরা অনেক ভলো করবে। কারণ প্রশ্ন ফাঁস করার কোনো সুযোগই নাই। এখানে আমাদের তত্ত্বাবধানেই প্রশ্ন প্রিন্ট হয়। সঙ্গে থাকে ট্রেকিং। এ সংক্রান্ত কমিটি খুবই নিবেদিত ও আপোষহীন। ফলে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার দূরতম আশঙ্কাও নাই। 

কেন্দ্রে প্রবেশে তল্লাশি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে কেন্দ্রে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার (২৮ মার্চ) ডিএমপি সদরদপ্তরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ ছাড়াও দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানোসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ডিএমপির তরফ থেকে জানানো হয়, করোনা সংক্রমণ রোধে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মাস্ক পরে কেন্দ্রে আসার জন্য বিশেষ নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। কেউ মাস্ক না পরে এলে মাস্ক সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে।

অন্যান্য নির্দেশনা হলো, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ। পরীক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজ সঙ্গে নিতে পারবেন না। সকাল ৮টায় কেন্দ্রের গেট খুলে দেওয়া হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সাড়ে ৯টার পর কেন্দ্রের গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সব পরীক্ষার্থীর দেহ তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হবে। কেন্দ্র পরিদর্শক ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে মোবাইল কোর্ট। ওইদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে বেলা ১১টা পর্যন্ত।

সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারসহ পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রের প্রতিনিধি, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। 

ঢাকা মহানগরীতে ১৮টি ভেন্যু 

ঢাকা মহানগরীর ভেন্যুগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (৯টি কেন্দ্র): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ভবন; লেকচার থিয়েটার ভবন; বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবন; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ; মোকারম হোসেন, বিজ্ঞান ভবন; এ.এফ মুজিবুর রহমান, গণিত ভবন, বিজ্ঞান ভবন; কাজী মোতাহার হোসেন ভবন; উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, বকশি বাজার, ঢাকা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (৩টি কেন্দ্র): ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ ও নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ (২টি কেন্দ্র): তেজগাঁও কলেজ, ইন্দিরা রোড, ঢাকা ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আগারগাঁও, ঢাকা। মুগদা মেডিকেল কলেজ (২টি কেন্দ্র): আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল ক্যাম্পাস, ঢাকা ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুগদা ক্যাম্পাস, ঢাকা। ঢাকা ডেন্টাল কলেজ (২টি কেন্দ্র): সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা ও সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।

এর আগে গত ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১ এপ্রিল (শুক্রবার) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য দেশের ১৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৫৭টি ভেন্যুতে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ও ভেন্যুসমূহ পরিদর্শনের জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

পরিদর্শকদের কার্যপরিধি

ক. ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দিন সকাল ৮টার পূর্বে কেন্দ্রে/ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করা।

খ. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নিযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে উত্তরপত্র নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে/ভেন্যুতে উপস্থিত থাকা।

গ. পরিদর্শন টিমের সদস্যগণ কর্তৃক স্ব-স্ব কেন্দ্রের পরিদর্শন প্রতিবেদন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা।

ঘ. ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজরি কমিটি কর্তৃক প্রণীত স্বাস্থ্যবিধির গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা।

ঙ. অতিরিক্ত সচিব দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রের আওতাধীন ভেন্যুসমূহের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

চ. কট্রোল রুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনে যে কোন কেন্দ্রে/ভেন্যুতে গমন করবেন।

ছ. ভর্তি পরীক্ষায় কেন্দ্রে পরিদর্শন টিমের কোন সদস্যের সন্তান/নিকটতম আত্নীয় বর্ণিত পরীক্ষায় পরক্ষিার্থী থাকলে তাকে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিষয়টি আবশ্যিকভাবে চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখাকে অবহিত করতে হবে।

‘জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং কর্মকর্তাগণ বিধি-মোতাবেক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সম্মানী এবং স্ব-স্ব কর্মস্থল থেকে টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন’ বলা হয় আদেশে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত