০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১১:০৫ এএম

অ্যানাটমির প্রখ্যাত অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাই ফকির আর নেই

অ্যানাটমির প্রখ্যাত অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাই ফকির আর নেই
অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাই ফকির

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল হাই ফকির আর নেই। আজ সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর মেয়ে ডেল্টা মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. লাজিনা আফরোজ শাওন মেডিভয়েসকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল হাই ফকির বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রথম অসুস্থ হন। সর্বশেষ কোভিডে আক্রান্ত হন। গত প্রায় এক মাস ধরে বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। সর্বশেষ বিএসএমএমইউর (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানে আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দায়িত্বশীল এই প্রবীণ শিক্ষক।

তাঁর ছেলে আবদূর রাকিব তমাল জানিয়েছেন, আজ বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মৃত্যুকালে তাঁর ৮৩ বয়স হয়েছিল। তিনি ১৯৩৯ সালের ১ অক্টোবর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার শিলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ডা. আব্দুল হাই ফকির ছিলেন মমেকের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। পরে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সাবেক আইপিজিএমআর থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি দীর্ঘদিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ছিলেন। পরে বিএসএমএমইউর অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে যুক্ত হন। সেখানে ২৫ বছর শিক্ষকতা করেন তিনি।

কিংবদন্তি এ চিকিৎসকের দায়িত্বশীলতা ও সাহসিকতার স্মৃতিচারণ করে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. এনামুল কবির মেডিভয়েসকে বলেন, মমেকে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সরকার ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর, মুসলিম লীগ নেতা আব্দুল মোনায়েম খানের নামে মেডিকেল কলেজ করার প্রস্তাব করেন। তিনি ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ছাত্রদের নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, নাম পরিবর্তন করা হলে সরকার এর ব্যয় বহন করবে না। মোনায়েম খান নিজে এর ব্যয় বহন করবেন। এর পর ছাত্র ও ময়মনসিংহের সর্বস্তরের মানুষের তীব্র দাবির মুখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ নাম ঠিক বহাল থাকে। বাংলাদেশ অ্যানাটমি সোসাইটি গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। 

জহুরুল ইসলাম মেডিকেলে শিক্ষকতার সময় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জহুরুল ইসলাম তাকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর মেডেকেলে সার্ভিস দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন এবং ২০১৭ সালে মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অ্যানাটমির প্রখ্যাত এ চিকিৎসকের মৃত্যুতে মেডিভয়েস পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে মেডিভয়েস। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসকের মৃত্যু
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার

আগামী ১০ বছরে করোনার মতো কোনো মহামারীর শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক