০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০১:১৭ পিএম

ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানে সচেতনতায় গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে 

ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানে সচেতনতায় গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে 
যার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, তার শরীরে জোড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা কিডনি প্রতিস্থাপন বলে। ফাইল ছবি

বিশ্বজুড়ে প্রতি দশজনে একজন কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। সাধারণত হাইপার টেনশন ও ডায়াবেটিকসসহ নানা অনিয়মের কারণে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিডনির সমস্যা। এ থেকে সুরক্ষাসহ কিডনি প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মেডিভয়েসের সঙ্গে কথা বলেছেন কিডনি ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি (নিকদু) হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান।  

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বলতে কি বোঝায়, কি কি রোগে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন?  

অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান: একজন সুস্থ লোকের কাছ থেকে একটি কিডনি নিয়ে অসুস্থ রোগী—যার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, তার শরীরে জোড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা কিডনি প্রতিস্থাপন বলে। অর্থাৎ যার দুটো কিডনি আছে সেখান থেকে একটি কিডনি নিয়ে আরেকটা রোগী অর্থাৎ যার দুটো কিডনি অকেজো, তার শরীরে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াকে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলে। একজন সুস্থ মানুষের বদান্যতায় আরেকজন অসুস্থ মানুষ স্বাভাবিক জীবনের সন্ধান পাচ্ছেন। এটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি কাজ। 

মেডিভয়েস: কি কি কারণে কিডনি নষ্ট হয়? 

অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান: কিডনি নষ্ট হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। আমাদের দেশে কিডনি নষ্ট হওয়ার কারণগুলো মধ্যে রয়েছে: বাচ্চাদের ক্রনিক ফাইলোনেফাইটিজ, বড়দের হাইপার টেনশন ও ডায়াবেটিকস। এসব কারণে কিডনি নষ্ট হতে পারে। 

অনেক সময় কবিরাজি ওষুধ খেলে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন, অনেকে না জেনে-বুঝে ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবনে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। হোমিওপ্যাথিক, কবিরাজি ও অজ্ঞ গ্রাম্য ডাক্তারের ওষুধ সেবন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ইনফেকশন থেকেও কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মেডিভয়েস: কারা কিডনি দিতে পারবেন? কিডনি কি কেনা বেচা করা যায়?  

অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান: কিডনি কেনা-বেচার অনুমতি এই উপমহাদেশে নেই, বাংলাদেশেও নেই। এখানে কিডনি ডোনেশন একটি অ্যাক্ট আছে। সেই অ্যাক্ট আগে ছিল ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভ অর্থাৎ বাবা-মা, ভাই-বোন ছাড়া দিতে পারবে না। পরবর্তীতে এটা সংশোধন করে নতুন নিয়ম হয়। সে অনুসারে চাচাতো ভাই, খালাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, মামা, চাচা, খালা ও ফুফু—এরা দিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা রক্ত সম্পর্কীত। খালু দিতে পারবে না। আর কোনো নারী তার স্বামীকে এবং স্বামী স্ত্রীকে দিতে পারবেন। 

মেডিভয়েস: ক্যাডাভার ডোনেশন কি? কিভাবে এটা করা হয়। আমাদের দেশে কি সম্ভব? 

অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান: ক্যাডাভার ডোনেশন হচ্ছে, যাদের ব্রেন ডেথ হয়ে যায় তাদের বিভিন্ন অঙ্গ অন্যকে দান করা। অর্থাৎ নানা দুর্ঘটনা, অসুস্থ কিংবা অন্য কোনও কারণে মারা যাওয়ার পর অথবা রোগী যখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকে। তো কারও ব্রেন ডেথ হয়ে গেলো, তার আর ফিরে আসার সম্ভাবনা আর থাকে না। সেক্ষেত্রে ওই অসুস্থ রোগীর অভিভাবক অনুমতি দিলে, ব্রেন ডেথ রোগীর কিডনি দ্বারা একজন অসুস্থ রোগীর কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা যায়। এটাকে বলে ক্যাডাভারি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট।

ক্যাডাভারি কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ক্ষেত্রে দেশে আইন হয়েছে। আমাদের ধর্মীয় মানসিকতা, নিজস্ব মানসিকতার জন্য সাধারণত আত্মীয়-স্বজনরা এ বিষয়ে রাজি হয় না। অনেক সময় দুর্ঘটনায় অনেক রোগী মারা গেলেও স্বজনরা কাঁটা ছেড়া করতে দেন না। এ মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য তাদেরকে বোঝাতে হবে, দরকার হবে অনুপ্রেরণা দেওয়া। 

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি লোক মারা যাওয়ার পরও কিডনি জীবিত থাকে। তাই ওই ব্যক্তির দুইটি কিডনি আরও দুজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দিলে তারা জীবন ফিরে পাবেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যম যদি মানুষকে বারবার বোঝাতে পারে। তাহলে ক্যাডাভারি কিডনি ডোনেশ সক্ষমভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া যারা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, কিংবা আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পঙ্গু হাসপাতাল জরুরি ভর্তি হয়ে মারা যান। তাদেরকে ক্যাডাভার ডোনেশন করার জন্য টিম রেডি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও ওইভাবে এটা করা যায়নি। 

সুতরাং এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ক্যাডাভার ডোনার বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। এটা করলে ক্যাডাভার ডোনার বেড়ে যাবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত