১১ জানুয়ারী, ২০২২ ১১:০৫ এএম

মানবদেহে প্রথম শূকরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের দাবি

মানবদেহে প্রথম শূকরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের দাবি
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

মেডিভয়েস ডেস্ক: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল স্কুলে যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

এর ফলে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল স্কুলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘সাত ঘণ্টাব্যাপী সুনিবিড় পরীক্ষামূলক এ সার্জারির তিন দিন পর রোগীর অবস্থা ভালো। যদিও এই অস্ত্রোপচারের সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য এটি খুবই কম সময়।’

মেরিল্যান্ড মেডিকেল স্কুলের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ডেভিড বেনেট নামে ৫৭ বছরের এক ব্যক্তির দেহে শূকরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা জিনগত দিক থেকে পরিবর্তন করা হয়েছিল। আপাতত ওই রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তার শরীরের অঙ্গ কীভাবে কাজ করে, সেদিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। 

চিকিৎসকদের দাবি, প্রাণীদের থেকে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে মাইলফলক হতে চলেছে এ ঘটনা। 

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক বার্টলে গ্রিফিথ বলেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার ছিল। অঙ্গের অভাব যে রয়েছে, সেই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমাদের আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে এ ঘটনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সতর্কভাবে কাজ করেছি। তবে আমরা আশাবাদী যে বিশ্বের এ ধরনের প্রথম অস্ত্রোপচারের ফলে ভবিষ্যতে রোগীদের সামনে নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

কেন মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হলো না জানতে চাইলে মেরিল্যান্ড মেডিকেল স্কুল জানায়, ওই ব্যক্তি গত কয়েক মাস ধরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। একটি যন্ত্রের মাধ্যমে চলছিল তার হৃৎপিণ্ড। তার শরীরের যা অবস্থা ছিল, তাতে মানবদেহের হৃৎপিণ্ডের ধকল সইতে পারতেন না। সাধারণ অঙ্গগ্রহীতার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হলে এ রকম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়।

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে ডেভিড বলেছিলেন, ‘বিষয়টি এ রকম ছিল যে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হবে অথবা এই প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমি বাঁচতে চাই। আমি জানি, এটি অন্ধকারে তীর ছোড়ার মতো বিষয় ছিল। এই অঙ্গ প্রতিস্থাপনই ছিল আমার শেষ বিকল্প।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সুস্থ হওয়ার পর বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে উন্মুখ হয়ে আছি।’

বিসিসি জানিয়েছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আশায় থেকে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতিদিন ১৭ জন মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। দেশটিতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চাহিদা মেটাতে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন নামে প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহারের বিষয়ে অনেকদিন ধরেই গবেষণা চলছে। হৃদপিণ্ডে শূকরের ভাল্ব ব্যবহার এখন অনেকটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে নিউইয়র্কের চিকিৎসকরা ঘোষণা করেন, তারা এক ব্যক্তির দেহে সফলভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও