দুই দিন পানিশূন্য হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, দুর্ভোগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপে হঠাৎ পানির বদলে বালু উঠছে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত এই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সীমাহীন কষ্টে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পেতে পাঁচ থেকে সাত দিনের মতো সময় লাগতে পারে।
পানির সংকটে ক্ষোভ শুধু রোগীদেরই নয়, চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝেও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একজন সহযোগী অধ্যাপক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ সমস্যা নতুন না। মাঝে মাঝেই এখানে পানি থাকে না। এতে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এটি কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পানিশূন্য হাসপাতাল।’
বৃহস্পতিবার পানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই রোগী ও স্বজনরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বিষয়টি জানান। প্রকৌশলীরা সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানান, গভীর নলকূপে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পাম্প দিয়ে পানি উঠছে না। এর বদলে বালু উঠছে।
গণপূর্তের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ঢাকা শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেকটা নেমে গেছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আমাদের যে পাম্পটি আছে, ওটার পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এই কারণে পাম্প থেকে পানির বদলে বালু উঠছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন করে গভীর নলকূপ খনন শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ করতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগবে।
এই বিষয়ে জানতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দিন একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।