২৮ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৩১ পিএম

প্রতিকারের চেয়ে স্ট্রোক প্রতিরোধ জরুরি

প্রতিকারের চেয়ে স্ট্রোক প্রতিরোধ জরুরি
অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে। আমরা জীবন দান করতে পারি না, কিন্তু রক্ষা করতে পারি।’ ছবি: ওমর ফারুক ফাহিম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মারাত্মক আকার ধারণ করা স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এই রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই অধিকতর নিরাপদ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নিউরোসার্জারি বিভাগের আয়োজনে স্ট্রোক বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘স্ট্রোকের ৮৫ ভাগ ইস্কিমিক এবং ১৫ ভাগ হেমোরাইজিং। তবে এই ১৫ ভাগই মারাত্মক। এ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিরোধের চেয়ে প্রতিকারই উত্তম ও নিরাপদ। মনে রাখতে হবে, আমি যেনো চারজনের মধ্যে একজন না হই, সে জন্য সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান, মদ্যপানসহ ক্ষতিকর সকল অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এজন্য নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। সুষম খাবার গ্রহণ এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’ 

স্ট্রোকের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘স্ট্রোক কি ধরনের অসুখ সে বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। যেন লক্ষণ বুঝে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায়।’ 

তিনি বলেন, এ রোগে সিটিস্ক্যান হলো শনাক্তের সব থেকে দ্রুত পদ্ধতি। যত দ্রুত সম্ভব স্ট্রোক নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। 

একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে। আমরা জীবন দান করতে পারি না, কিন্তু রক্ষা করতে পারি।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ‘নিয়ম শৃঙ্খলাই জীবন। আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা জানি, ধূমপান ক্ষতিকর; কিন্তু এই সংক্রান্ত প্রচারণায়ও কোনো ফল আসছে না। মদ্যপানের ভয়াবহতা নিয়ে প্রচারণার পরও তা কমছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা জানলেও তা আমরা কেউই করছি না। হাঁটাচলা করছি না। অথচ এর কোনো বিকল্প নেই। ফাস্টফুডসহ ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেছে।’

স্ট্রোক প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার বিষয়ে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আরও ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। বারবার বললে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। রোগীর স্বজনরা যদি জানেন, কোথায় গেলে চিকিৎসা সম্ভব এবং সময়ের মূল্য কতটুকু, তাহলে অনেক বিপদই কমে আসবে।’ 

এ সময় দেশে এ রোগের চিকিৎসার অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেন এই জাতীয় অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘স্ট্রোকের চিকিৎসা দেশে অনেক সীমিত পরিসরে হচ্ছে। তাই এটি কি করে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে ভাবতে হবে। আমরা জানি, মৃত্যু অনিবার্য; তবে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু যেনো না হয়, সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’ 

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্ট্রোক
সরকার-দাতা সংস্থাগুলোকে আগাম বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

এল নিনোর তীব্র ক্ষতির ঝুঁকিতে ৩৪ কোটির বেশি শিশু: ইউনিসেফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক