সমস্যা মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ডব্লিউএইচওর
মস্তিষ্কজনিত রোগে বিশ্বে প্রতি বছর মৃত্যু এক কোটি ১০ লাখ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মস্কিষ্কজনিত সমস্যায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর এক কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আর ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ তিন বিলিয়ন মানুষ মস্তিষ্কজনিত কোনো না কোন সমস্যায় আক্রান্ত।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে মৃত্যু এবং পক্ষাঘাতের জন্য শীর্ষ ১০টি স্নায়ুবিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, নবজাতক এনকেফালোপ্যাথি, মাইগ্রেন, আলঝেইমার এবং অন্যান্য ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, মেনিনজাইটিস, ইডিওপ্যাথিক মৃগীরোগ, অকাল জন্মের সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুবিক জটিলতা, অটিজম ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্যান্সার।
ডব্লিউএইচও বলেছে, উচ্চ-আয়ের তুলনায় নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে ৮০ গুণেরও বেশি নিউরোলজিস্ট রয়েছেন, যদিও এই রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে জাতীয় পরিকল্পনা, বাজেট এবং কর্মীবাহিনীর অভাব রয়েছে। সংস্থাটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মস্তিষ্কজনিত রোগের ব্যাপারে যত্নশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে জটিল এই রোগের প্রমাণ-ভিত্তিক এবং বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য প্রচার, রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সহকারী মহাপরিচালক ড. জেরেমি ফারার বলেছেন, ‘বিশ্বে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনেরও বেশি মানুষের মস্তিষ্কের কোনো না কোনো সমস্যা নিয়ে জীপন যান করছেন, তাই তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উপায়ে এই স্নায়ুবিক সমস্যা প্রতিরোধ বা কার্যকর চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবুও এসব চিকিৎসা বেশির ভাগ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চল, যেখানে লোকেরা এসব রোগের জন্য আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হন। রোগী ও তাদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে এবং এর চিকিৎসায় বিনিয়োগ করার জন্য আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।’
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এ প্রতিবেদন তৈরিতে ডব্লিউএইচওর মাত্র ৫৩ শতাংশ (১০২ দেশ) সদস্য রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেসব দেশে মস্তিষ্কজনিত বিষয়ে সীমিত মনোযোগ দেওয়া হয়। আর এ ব্যাধি মোকাবিলার জন্য ৩২ শতাংশ রাষ্ট্রে (৬৩টি দেশ) একটি জাতীয় নীতি রয়েছে এবং ১৮ শতাংশ (৩৪টি দেশ) দেশে এ রোগের চিকিৎসার নির্দিষ্ট তহবিল রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, সেসব দেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা এবং নীতিগত প্রচেষ্টার অগ্রগতি লাভ করলেও তা শক্তিশালী করার জন্য এ রোগ নিয়ে বিদ্যমান ভ্রান্ত ধারণা দূর, সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, নাগরিকদের প্রাপ্য ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিতে এখনও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা বেশিরভাগ মানুষের নাগালের বাইরে। মাত্র ২৫% সদস্য রাষ্ট্র (৪৯টি দেশ) তাদের সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ সুবিধা প্যাকেজে স্নায়ুবিক ব্যাধি অন্তর্ভুক্ত করেছে। সেসব দেশের শহরাঞ্চলে স্ট্রোক ইউনিট, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি, পুনর্বাসন এবং চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা অভাব রয়েছে। ফলে গ্রামীণ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী জীবন রক্ষাকারী এবং বিশেষায়িত সেবা থেকে বঞ্চিত থাকে।
প্রতিবেদনে এসব রোগের চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর তীব্র অভাব তুলে ধরা হয়েছে এবং অনেক রোগী সময়মত রোগ নির্ণয় ও নিউরোলজির সেবা পান না।
ডব্লিউএইচও বলেছে, স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্তদের সারা জীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবুও মাত্র ৪৬টি সদস্য রাষ্ট্র তাদের রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করে এবং মাত্র ৪৪টি সদস্য রাষ্ট্র রোগীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হন, যা সামাজিক বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী এবং পরিবারগুলোর উপর আর্থিক চাপ বাড়ায়।
কর্মপরিকল্পনা
এই ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো মস্তিষ্কজনিত রোগের সংকট কমাতে ২০২২ সালে মৃগীরোগ এবং অন্যান্য স্নায়ুবিক ব্যাধি সম্পর্কিত আন্তঃদেশীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।
এই কর্মপরিকল্পনা দেশগুলোকে নীতিগত অগ্রাধিকার জোরদার করা, স্বাস্থ্য সচেতনাত বিষয়ক প্রচার এবং রোগ প্রতিরোধসহ সময়োপযোগী এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা, ডেটা সিস্টেম উন্নত করার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও সেবা গঠনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে, স্নায়ুবিক রোগী বাড়তে থাকবে, যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য বৈষম্যকে আরও গভীর করবে।
সংকট মোকাবিলায় সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ডব্লিউএইচও আহ্বান হলো—
গতিশলী নেতৃত্ব এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে স্নায়ুবিক ব্যাধিগুলো নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রাধিকার প্রদান,
সার্বজনীন স্বাস্থ্য কাভারেজ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে স্নায়ুবিক যত্নের পরিধির বিস্তার ঘটানো ও
মূল ঝুঁকি লক্ষ্য করে সমন্বিত আন্তঃদেশীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে কার্যকর প্রচারনা চালানো।
এমইউ/
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’