একজন মানুষের মৃত্যুও চিন্তার বিষয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন মানুষ মারা গেলেও আমাদের চিন্তা করতে হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কমতে শুরু করেছে। এখন সংক্রমণ কমে ২০ শতাংশের মধ্যে চলে এসেছে। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমলেও আমরা সন্তুষ্ট নই, আমরা ৫ শতাংশের নিচে সংক্রমণ চাই।
আজ রোববার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) অডিটোরিয়াম হলে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গণটিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা হাতে না আসায় গণটিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। যথেষ্ট পরিমাণ টিকা হাতে এলেই আবারও গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে। টিকা পেতে চীনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে চুক্তি হবে। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের টিকা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এখন টিকা পেতে অপেক্ষায় আছি। ভারতের কাছে পাওনা আছে দুই কোটি ৩০ লাখ টিকা। কোনো কার্যক্রম আটকে নেই। টিকা পাওয়া সাপেক্ষে গণটিকা কার্যক্রম আবারও শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সপ্তাহে আমরা ৫৪ লাখ টিকা পেয়েছি। মাসের শেষের সপ্তাহে আরও ৫০ লাখ টিকা আসবে। এর মধ্যে আমাদের স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সাফল্য গাঁথা জীবন সম্পর্কে জাহিদ মালেক বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্মা গান্ধী জীবনে যখন কর্মজীবনে এসেছেন তখন থেকে তারা সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি স্কুল জীবন থেকেই সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন। এ রকম নজির পৃথীবির কোথাও নেই। তিনি যুদ্ধের পর তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এই তিন বছরে তিনি একটি সংবিধান দিয়েছেন, দেশে খাদ্য উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি করেছেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট ঠিক করেছেন, পরিত্যক্ত শিল্পকারখানা পুনর্গঠন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনক শৈশবকাল থেকেই সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, বাঙালি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে। বঙ্গবন্ধুর জীবনীই হলো বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশের নাগরিকদের পাকিস্তানিরা সুযোগ-সুবিধা দেয়নি, আমাদের অর্থনৈতীক মুক্তি ছিল না, শিল্পকারখানাগুলো ছিল তাদের, আমাদের ভোটাদিকার দেয়নি, পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিলাম, এখানকার সম্পদ দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান গঠন করা হয়েছে। এ সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধেই জাতির জনক লড়াই করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির।