টিকা পাচ্ছেন গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শর্তসাপেক্ষে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। সকলের ন্যায় গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের মধ্যেও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার টিকা বিষয়ক জাতীয় কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদেরকে কোভিড- ১৯ টিকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এমতাবস্থায় উক্ত জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় নির্দেশনাসমূহ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে প্রেরণ করা যাচ্ছে।
গর্ভবতী নারীদের টিকা প্রদানের পূর্বে করণীয়
• গর্ভবতী নারীগণকে সুরক্ষা ওয়েব পাের্টাল বা অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকরণ পূর্বক শুধুমাত্র হাসপাতাল বিশিষ্ট সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করতে হবে।
• টিকা প্রদানের পূর্বে টিকাকেন্দ্রের রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক কাউন্সেলিং সম্পন্ন সাপেক্ষে গর্ভবতী নারীকে টিকা প্রদান করতে হবে।
শর্তাবলী
• গর্ভবতী নারী টিকা গ্রহণের দিন অসুস্থ থাকলে তাকে কোভিড- ১৯ টিকা প্রদান করা যাবে না।
• অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীকে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা যাবে না।
• কোন গর্ভবতী নারীর ভ্যাকসিন অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে তাকে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা যাবে না।
• কোন গর্ভবতী নারী যদি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ১ম ডোজ গ্রহণের পর এইএফআই কেস হিসাবে শনাক্ত হন, তবে তাকে দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা যাবে না।
• সম্মতিপত্রে টিকাগ্রহিতার আইনানুগ অভিভাবক ও কাউন্সেলিং চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যতীত টিকা প্রদান করা যাবে না।
কাউন্সেলিং
কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক গর্ভবতী নারীকে টিকা প্রদানের পূর্বে অবশ্যই নিন্মোক্ত তথ্যাদি একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অবহিত করতে হবে।
গর্ভবতী নারীদেরকে সংক্রমণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিতকরণ
• নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্মদানের (অপরিণত নবজাতক) আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
• নবজাতকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
• বয়স্ক গর্ভবর্তী (৩৫ বছর), উচ্চ বিএমআইসম্পন্ন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত নারী গর্ভাবস্থায় (বিশেষ করে ১ম ও ২য় ট্রাইমেশার) কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তা মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
• সাধারণ নারীদের তুলনায় গর্ভবতী নারীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা অনেক বেশি।
গর্ভবতী নারীকে টিকার সুফল সম্পর্কে অবহিতকরণ
• কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করলে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ও এর ফলে সৃষ্ট জটিলতার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম।
• গর্ভাবস্থায় কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করলে কোভিভ-১৯ এর গর্ভজনিত ঝুঁকিসমূহের আশঙ্কা কম।
গর্ভাবস্থায় টিকা গ্রহণের ক্ষতিকর প্রভাব
• গর্ভবতী নারীদের কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের লাভ-ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য অপ্রতুল।
• অন্য যে কোনো টিকার ন্যায় কোভিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রেও টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া (এইএফআই) হতে পারে যা অন্য নারীদের মত গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
• দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কিত কোন তথ্য নেই।
সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ
উপরোক্ত নির্দেশাবলী সম্পন্ন করার পর সম্মতিপত্রে (সংযুক্ত) গর্ভবতী নারী ও কাউন্সেলরে (রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক) স্বাক্ষর গ্রহণপূর্বক টিকা প্রদান করতে হবে।
স্তন্যদানকারী নারীদের টিকা প্রদানের পূর্বে করণীয়
স্তন্যদানকারী নারীগণকে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করার ক্ষেত্রে বিশেষ কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতই বিদ্যমান নিয়মাবলি অনুসরণ করে টিকা প্রদান করতে হবে।