দ্বিতীয় ডোজে ভিন্ন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে যা বললেন বিশেষজ্ঞরা
মাহফুজ উল্লাহ হিমু: দেশে দুই ডোজের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার উদ্ভাবিত করোনার টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন মোট ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন। তবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকার আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকা কার্যক্রমে বেঘাত সৃষ্টি হয়। সে সময় ১৫ লাখের অধিক মানুষ দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণে ব্যর্থ হন। সম্প্রতি দেশে পৌঁছেছে মডার্না ও সিনোফার্মের মোট ৪৫ লাখ ডোজ টিকা। আগে এক ডোজ টিকা গ্রহণকারীরা এবারের চালান থেকে দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে পারবেন কিনা, কিংবা গ্রহণ করলে এর কার্যকারিতা কেমন হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।
দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ভিন্ন টিকা গ্রহণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দেখা গেছে মতানৈক্য। দ্বিতীয়বার ভিন্ন টিকা গ্রহণের কার্যকারিতা অনেক বেশি বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। তবে এ নিয়ে আরও গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে অন্য টিক গ্রহণ করা যাবে। বাইরের অনেক দেশের বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ডোজ এক টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ অন্য টিকা গ্রহণ করলে তা আরও বেশি কার্যকর হয়। এতে কোনো সমস্যা নেই। অনেকে তাঁদের গবেষণায় দেখেছেন, এতে টিকার কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।’
দ্বিতীয় ডোজের জন্য নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে গেলেও ক্ষতির আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম ডোজ গ্রহণের পর অল্প অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ে যদি দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় তখন আরও বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তবে কেউ যদি তা নিতে না পারে তাতে ক্ষতি নেই। পরে দিলেও পূর্ণ অ্যান্টিবডিটা তৈরি হবে। ডোজটা আগে নিলে হয়তো আরও আগে অ্যান্টিবডি হতো, পরে নেওয়ায় তা কিছুটা দেরিতে হলো। কিন্তু ফল আসবে না বা ক্ষতি হবে—বিষয়টি এমন নয়।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু মেডিভয়েসকে বলেন, ভিন্ন ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাবে, তবে তা করার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কারণ প্রথমিক অবস্থায় বলা হচ্ছে তাঁরা নিতে পারবেন। তবে সবকিছুরই একটি প্রতিক্রিয়া রয়েছে। দুটি টিকার মধ্যে বেশকিছু বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে। সেই পার্থক্যগুলোর বিপরীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করবে। দুটি ভিন্ন টিকার ডোজ গ্রহণে কতটুকু অ্যান্টিবডি তৈরি হবে এটা গবেষণার বিষয়। এটি এখনও গবেষণা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মত এতে উদ্বেগের কোনো বিষয় নেই।’
‘মডার্না ও সিনোফার্মের নতুন টিকাগুলো এমআরএনএ টিকা, অপরদিকে অক্সফোর্ডেরটি ডিএনএ টিকা। এদের উপদানেও ভিন্নতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকা স্বাভাবিক। এটি হয়তো এতটা বিপজ্জনক হবে না, তবে কারো কারো কারো ক্ষেত্রে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে’, যোগ করেন ঢামেকহার ভাইরোলজি প্রধান।
অভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে ঢামেক হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাব ইনচার্জ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মিক্সিং-ম্যাচিং বা প্রথম একটি ভ্যাকসিন নিয়ে পরে আরেকটি ভ্যাকসিন গ্রহণে অধিক অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের মিক্সিংয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। তবে আমাদের দেশে এটি নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। গবেষণার আগে এ ধরনের প্রয়োগকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না। আমার কাছে যারা এ বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছেন আমি তাদের নিরুৎসাহিত করেছি। প্রয়োগের আগে আমাদের দেশে এটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি।’
দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকার জন্য অপেক্ষা করা উচিত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অ্যাস্ট্রোজেনেকার জন্য অপেক্ষা করলে কোনো ক্ষতি নেই। তিন মাস বা চার মাস গেলেও কোনো সমস্যা হবে না। প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নিলে সেটায় বুস্ট আপ হয়। এক্ষেত্রে এক মাস দেরি হলে কোনো সমস্যা নেই। আমার ব্যক্তিগত মতামত অন্য ভ্যাকসিন না নিয়ে কিছুদিন অপেক্ষা করে অ্যাস্টোজেনেকার ভ্যাকসিন নেওয়াই ভালো হবে।’
প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৭ জানুয়ারি টিকা দান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে গণহারে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকার আমদানি বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি দেশে পৌঁছেছে মডার্না ও সিনোফার্মের মোট ৪৫ লাখ ডোজ টিকা।
-
০৭ জানুয়ারী, ২০২৩
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
-
২৪ নভেম্বর, ২০২১
-
২৩ নভেম্বর, ২০২১
-
১৩ নভেম্বর, ২০২১
-
০৩ নভেম্বর, ২০২১
-
৩১ অক্টোবর, ২০২১
-
৩১ অক্টোবর, ২০২১
-
২৮ অক্টোবর, ২০২১