ড. তৌফিক হাসান

ড. তৌফিক হাসান

সহকারী অধ্যাপক, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)


০২ জুলাই, ২০২১ ০৬:৩১ পিএম

অক্সিজেট অনুমোদনে জটিলতা, নীতি বড় নাকি মানবতা?

অক্সিজেট অনুমোদনে জটিলতা, নীতি বড় নাকি মানবতা?
ছবি: ড. তৌফিক হাসানের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

গতকাল দেশে এ পর্যন্ত দৈনিক সর্বোচ্চ ১৪৩ জন করনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেক হাসপাতালেই পর্যাপ্ত হাই ফ্লো অক্সিজেন এর সুবিধা নেই। এ অবস্থায় আমাদের অক্সিজেট যন্ত্রটি অনেক কাজে লাগতে পারত।

আপনারা অনেকেই জানেন, বুয়েটে তৈরি অক্সিজেট সিপেপ যন্ত্রটি কোন বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই সাধারণ ওয়ার্ডে মিনিটে ৬০+ লিটার অক্সিজেন দিতে পারে (৪০ - ১০০% ঘনত্ব/FiO2)। সম্পূর্ণ ব্যাবস্থার দাম ২০-২৫ হাজার টাকা। যেখানে হাই ফ্লো নেসাল ক্যানুলার দাম ২-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চলমান  ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর তথ্য অনুযায়ী অক্সিজেট এ চিকিৎসা হাই-ফ্লো চিকিৎসার সমকক্ষ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। তবে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, অক্সিজেট দ্বারা চিকিৎসায় হাই-ফ্লো নেসাল ক্যানুলার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম অক্সিজেন প্রয়োজন হয়! এই মুহূর্তে এরকম একটি যন্ত্রের অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই যন্ত্রটির জরুরি অনুমোদন পাওয়া যায়নি কেন?

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী কোন মেডিকেল যন্ত্রের অনুমোদনের জন্য যথাযথ ফ্যাক্টরি ব্যাবস্থা (ISO 13485/9001 certified ইত্যাদি) আছে এরকম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি দ্বারা তৈরী হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরী কোন মেডিকেল যন্ত্রের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। কয়েকটি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যথাযথ ফ্যাক্টরি ব্যাবস্থা আছে এরকম কোন কোম্পানি অক্সিজেট এর গণ-উৎপাদনে সম্মতি দেয়নি। 

সমস্যাটি ব্যাবসায়িক, এটি বাংলাদেশে করোনাকালীন সময়ে হয়ত কয়েক হাজার ইউনিট বিক্রি হবে, কিন্তু অক্সিজেট “দামে কম, মানে ভালো" তাই বেশি লাভ হবে না! বড় কোম্পানি তাদের কোটি টাকার ব্যাবসার মাঝে এই ছোট যন্ত্রটি নিয়ে কেন সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করবে? অন্যদিকে ছোট কোম্পানির মেডিকেল যন্ত্র বানানোর মত ফ্যাক্টরি নেই। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এরকম কোম্পানিকে অনুমোদন দেবে না। তাহলে উপায় কি?

এই মুহুর্তে বুয়েটে তৈরী ও পরীক্ষিত বেশ কয়েকটি অক্সিজেট যন্ত্র রয়েছে। জরুরী অনুমোদন পাওয়া গেলে এগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যাবহার করা যেত। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কোন বড় কোম্পানিকে রাজি করিয়ে যন্ত্রটির অনুমোদন পেতে হয়ত আরো কয়েক মাস লেগে যাবে। যেখানে মানুষ হাই ফ্লো অক্সিজেন পাচ্ছেনা, এই যন্ত্রগুলো এই মুহূর্তে কিছু মানুষের হয়ত কাজে আসত। কিন্তু এটা একটি বিরাট দ্বন্দ্ব - এগুলো কি এখনি হাসপাতালগুলোতে ব্যাবহার করা ঠিক হবে? নাকি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদনের অপেক্ষা করা উচিত? নীতি (Policy) বড় নাকি মানবতা (Humanity)?

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না