ঢাকায় ৭১ ও চট্টগ্রামে ৫৫ ভাগ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে: আইসিডিডিআরবি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকায় শতকরা ৭১ ভাগ ও চট্টগ্রামের শতকরা ৫৫ ভাগ মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। প্রতিষ্ঠানটির ডা. রুবহানা রাকিব ও ড. আবদুর রাজ্জাকের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) আইসিডিডিআরবির গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘আইসডিডিআির,বি সম্প্রতি সার্স-কোভ-২ সংক্রমণের বিস্তার নির্ণয়ের জন্য একটি গবষেণা পরচিালনা করছে। গবষেণাটি ঢাকা ও চট্টগ্রামরে বস্তি ও বস্তিলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী করোনার উপর্সগযুক্ত এবং উপর্সগহীন ব্যক্তিদের উপরে করা হয়ছে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে সেরোপজটিভিটি (রক্তে করোনার উপস্থতি) সর্ম্পকতি বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষেণ করা হয়ছে।’
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, বস্তির বাইরে, বস্তিসংলগ্ন এলাকার নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের তুলনায় সার্স-কোভ-২ অ্যান্টিবডি সেরোপ্রিভ্যালেন্স বস্তিতে বেশি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে ঘন ঘন হাত ধোয়া, সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রভাব ফেলেছে। সেরোপজিটিভিটির সাথে যুক্ত অন্যান্য প্রভাবক কারণগুলির মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। মাঝারি কায়িকশ্রম যারা করে তাদের মধ্যে সেরোপজিটিভিটির সম্ভাবনা কম দেখা গেছে।’
গবেষণায় প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্য
১. তিন হাজার ২২০ জন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকায় সেরোপজিটিভিটির হার বেশি। ঢাকায় যেটি শতকরা ৭১ ভাগ , চট্টগ্রামে তা ৫৫ ভাগ। বয়স্ক ও তরুণদের সেরোপজিটিভিটির হার প্রায় সমান। মহিলাদের মধ্যে সেরোপজিটিভিটির হার ৭০.৬ ভাগ, যা পুরুষদের মধ্যে ৬৬ ভাগ। যেসব অংশগ্রহণকারীদের (মোট দুই হাজার ২০৯) মধ্যে সেরোপজিটিভিটি পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে শুধুমাত্র ৩৫.৫ ভাগের ক্ষেত্রে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছিল।
২. স্বল্প শিক্ষিত, অধিক ওজন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত যারা রয়েছে, তাদের মাধ্যে অধিক মাত্রায় সেরোপ্রিভেলেন্স বা রক্তে করোনার উপস্থিতি দেখা গেছে।
৩. বার বার হাত ধোয়ার প্রবণতা, নাক-মুখ কম স্পর্শ করা, বিসিজি টিকা গ্রহণ এবং মাঝারি ধরণের শারীরিক পরিশ্র্রম করা ব্যাক্তিদের মধ্যে কম মাত্রার সেরোপ্রিভেলেন্স দেখা গেছে।
৪. সেরোনেগটিভ ব্যক্তিদের তুলনায় সেরোপজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে সেরাম জিংকের মাত্রা বেশি দেখা গেছে। এটাই হয়তো গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে রোগের মৃদু লক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
৫. গবেষণায় ভিটামিন-ডি এর অপর্যাপ্ততার সাথে সেরোপজিটিভিটির কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভিটামিন-ডি এর উচ্চ মাত্রার ঘাটতি দেখা গেছে।
গবেষণার উদ্দেশ্যর বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বস্তি এবং বস্তির বাইরে বসবাসকারীদের রক্তে করোনার উপস্থিতি এবং তার সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করা। যেসকল সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেগুলো হলো শরীরে অন্য কোন শ্বাসকষ্টজনিত ভাইরাসের উপস্থিতি, পুষ্টিগত অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা।’
এছাড়া সমীক্ষাটি ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে পরিচালনা করা হয়েছে। এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ফরেইন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইউনাইডেট নেশনস পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ) এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এই গবেষণায় এডভোকেসি পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪