১৭ জুন, ২০২১ ০৪:৩৭ পিএম

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪০ সালে দেশ তামাকমুক্ত হবে: স্বাস্থ্য সচিব

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪০ সালে দেশ তামাকমুক্ত হবে: স্বাস্থ্য সচিব
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোডম্যাপ তৈরিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) মুজিব বর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে অনলাইন জুম অ্যাপে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তামাক যেহেতু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে- তাই তামাকজনিত অকালমৃত্যু কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণেও সরকার সক্রিয় রয়েছে। সরকারের এসডিজি অর্জনের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।’

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোডম্যাপ প্রণয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে অবশ্যই তামাকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন লোকমান হোসেন মিয়া। 

তামাক ব্যবহারের ক্ষতির নানা দিক তুলে ধরে সচিব বলেন, ‘তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি করে। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় সাত হাজারের বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া নারী, শিশুসহ অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে সারাবিশ্বে প্রতিবছর ৮০ লক্ষাধিক ও বাংলাদেশে এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মারা যায়। এছাড়া সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চাইতে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এ ঘোষণা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগও সক্রিয় থাকবে। মেডিকেল শিক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া পরিবার কল্যাণে বিদ্যমান কর্মসূচির সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়কে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য সচিবের সভাপত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রি. জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল মালিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য) কাজী জেবুন্নেছা বেগম প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক