১৫ মে, ২০২১ ০৯:৩৯ পিএম
করোনায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

বেঁচে থাকলে আরও বড় পরিসরে ঈদ উদযাপনের সুযোগ আসবে

বেঁচে থাকলে আরও বড় পরিসরে ঈদ উদযাপনের সুযোগ আসবে
প্রতীকী ছবি

মো. মনির উদ্দিন: ঈদ ঘিরে প্রতিটি মানুষের মনেই কাজ করে অন্য রকম উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা। নিজের গণ্ডিতে থেকে যথাসম্ভব উপভোগ করেন ঈদের আনন্দ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে জৌলসু হারিয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। ফলে ছেলে-বুড়ো কারোরই আগের মতো করা হয় না খুশির বানে মন খুলে অবগাহন। সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও ফিকে হয়ে এসেছে ঈদআনন্দ।

সচেতন নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদযাপনের পরিকল্পনাও। করোনার সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্য সৈনিকদের উত্তরসূরী হিসেবে তাই তারা এবার নিয়ন্ত্রিত ঈদ উদযাপন করছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে ঈদ আনন্দ সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ তাদের।

মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে এবারের ঈদ ভাবনার কথা তুলে ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৭৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিনুল আনাম ফায়েদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এবারের ঈদটা প্রফময়। আগামী ৩০ মে থেকে প্রফ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাতিল হচ্ছে। এর আগেও একবার বাতিল হয়েছে। এছাড়া করোনার কারণে সবাই একটা আবদ্ধ পরিস্থিতিতে আছে। আমাদের শিক্ষক, অগ্রজ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা করোনার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে লড়াই করে যাচ্ছেন। আমাদের সব কিছু অনলাইনে চলে যাওয়ায় আমরা এটাতে অংশ নিতে পারছি না। বিষয়টি খুব খারাপ লাগে। পঞ্চম বর্ষে আমরা যত দিন ব্লক করেছি, তখন আমাদের হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। আমরা সবাই বিষয়টি উপভোগ করেছি। কিন্তু এখন সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

ঈদে হতদরিদ্র মানুষের অনাহারে থাকাসহ মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা হাসপাতালে কাজ করি—সেখানে দেখি মানুষের দুঃখটা কোন পর্যায়ের হতে পারে, তাদের কষ্টটা কোন জায়গায় যেতে পারে। নিঃসন্দেহে করোনার আসার পর থেকে এর তীব্রতা আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। এটা আমরা সবাই দেখছি এবং উপলব্ধি করি। নিজেদের জায়গা থেকে যতদূর পারা যায়, করছি।

করোনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে বারডেম মেডিকেল কলেজের ২০১৫ সেশনের শিক্ষার্থী জিহাদ লস্কর বলেন, অসহায় মানুষদের সযোগিতায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা কোনো বড় গ্রুপ এগিয়ে আসতে পারে। যদিও এ কাজের সমন্বয় করাটাই দুরুহ। তবে এটি হলে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ উপকৃত হতে পারে। অনলাইনে চিকিৎসকদের অনেকগুলো গ্রুপ সক্রিয় আছে। তারা উদ্যোগ নিলে অন্যান্য চিকিৎসকরা এতে অংশ নিবে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োগে বেশ অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। সর্বস্তরের লকডাউনের ঘোষণা করা হলো, মানুষের চলাচল সীমিত হলো। সেখানে আবার চিকিৎসকদের রাস্তায় পড়তে হলো ভোগান্তিতে। লকডাউনে গার্মেন্টস, মার্কেট খোলা রাখাটা অর্থহীন মনে হয়েছে। সুতরাং কোভিড নিয়ন্ত্রণের কাজগুলো আরও সুচারুরূপে হওয়া জরুরি।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী আবু মুসা শহীদ বলেন, অন্যান্য সময় আমরা বাইরে বের হতাম। প্রতি ঈদেই বিকেলের দিকে ঘুরতে বের হতাম। করোনার কারণে এবার তো এটা সম্ভব না। তাই বাসায় থেকে পরিবারকে সময় দিতে পারি। সবাই মিলে ঈদটা উপভোগ করতে পারি। এ ছাড়া অনলাইনেও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পরিচিতজন, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া সম্ভব।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনার ভয়াবহতা তুলে ধরে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে মানুষের উদাসীনতায় হতাশা ব্যক্ত করেন এ মেডিকেল শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, শহরে তো অনেকে মাস্ক পড়েন। কিন্তু গ্রামে এর কোনো বালাই নেই। এখানে হাজারের মধ্যে একজনও মাস্ক পরে না। গ্রামে গেলে মনে হবে এক ভিন্ন জগতে চলে গেছেন।

ঈদের দিন স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে অবহেলা করা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদের কারণে এমনিতেই অনেক মানুষের সমাগম। এ অবস্থায় যদি স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনে সামান্যতম অবহেলা হলে অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে নির্বাচনের কারণে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেকে ভারতে গিয়েছে, তাদের কেউ যদি ভারতের করোনার ধরনটা নিয়ে আসেন। তাহলে ঈদের আনুষ্ঠানিকতায় এটা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে যেতে পারে। ভারতের ধরনটি একজন থেকে শত শত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা সতর্ক করলেও সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না। কারণ এই জীবানু চোখে দেখা যায় না। গ্রামের সরল মানুষেরা বুঝতে সক্ষম না। সেক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথেষ্ট ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়া রোধে ঈদের তাদের অনেক সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। 

‘আমার ভাবনা হলো, মহামারীর কারণে এবারের ঈদ আনন্দটা ঘরে ঘরে হোক। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবাই একটু বিচ্ছিন্ন থাকুক। বেঁচে থাকলে আরও বড় আকারে সম্মিলন ঘটনানোর সুযোগ থাকবে’—যোগ করেন তিনি।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনায় ঈদ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি