০৬ মে, ২০২১ ০৩:০৯ পিএম
উন্মুক্ত হলো ওয়েবসাইট

ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা: ক্লিয়ারেন্স পেলেই বসতে পারবেন শিক্ষার্থীরা  

ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা: ক্লিয়ারেন্স পেলেই বসতে পারবেন শিক্ষার্থীরা  
ছবি: সংগৃহীত

মো. মনির উদ্দিন: ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য ওয়েবসাইটের লক খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহরিয়ার নবী। তিনি বলেন, আইটেম, পারসেন্টেজ, ক্লিয়ারেন্স—এসব ঠিক থাকলেই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।

তিনি জানান, কলেজের সঙ্গে এ সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ কিংবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ফরম পূরণে জন্য ওয়েবসাইট খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও ফল প্রকাশের অষ্টম দিনেও তা উন্মুক্ত করা হয়নি। তারা জানান, আগামী ৯ মে কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং এর মধ্য ফরম পূরণের সুযোগ না পেলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

যা বললেন ঢাবি ডিন

তবে ক্লিয়ারেন্সসহ কলেজের সঙ্গে দেনা-পাওনা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহরিয়ার নবী।

তিনি বলেন, ‘ফরম পূরণের জন্য সব কিছু ওপেন আছে। অভ্যন্তরীণ (কলেজের সঙ্গে) কোনো সমস্যা না থাকলে, যেমন: আইটেম, পারসেন্টেজ, ক্লিয়ারেন্স—এসবে সমস্যা না থাকলে কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না।’

ওয়েবসাইট খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ডিইউ ডিন বলেন, ‘এটা কোনো সমস্যা না। মূল সমস্যা হলো, কলেজে তাদের অনেকের ক্লিয়ারেন্স হয়নি। পারসেন্টেজ না ছুটলে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানতে চাইলে আমি বলেছি, ২০১৫-১৬ সেশনের যেসব শিক্ষার্থী কয়েক দিন আগে পরীক্ষা দিয়েছে, তারা এরই মধ্যে এক বছর পিছিয়ে পড়েছে। যেহেতু করোনার কারণে পরীক্ষার সূচি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। পরীক্ষা দিতে না পারলে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে।’

শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ব্যথাটা বুঝি। আর এ কারণেই করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও সীমিত জনবলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় এ ফলাফল তৈরি করেছি। সবই তাদের কল্যাণেই ছিল। তাদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করেই করেছি। তাদেরকে আটকানোর ইচ্ছা থাকলে পরীক্ষার ফলই প্রকাশ করতাম না।’

এর আগে গত ২ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডিন মেডিভয়েসকে বলেছিলেন, ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের লক্ষ্যে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটের লক খুলে দেবে ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস। এর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। এর মধ্যে ক্লিয়ারেন্সসহ কলেজের সঙ্গে নিজেদের দেনা-পাওনা সম্পন্ন করতে হবে তাদের।

ফরম পূরণকে একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ অফিস জানায়, এরই মধ্যে অনেকের ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে। আর যারা পারেনি তারা বিলম্ব ফি দিয়ে এটি করে নেবে। পরীক্ষার দুই-তিন আগেও তারা ফরম পূরণের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

এ ঘোষণার চার দিন পরও ওয়েবসাইটের লক খুলে দেওয়া হয়নি বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ‘ওয়েবসাইট খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়নি। আগামী ৯ মে কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত খুলে দিলে আমরা ঈদের আগে ফর্ম পূরণে সুযোগ পেতাম।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২৭ এপ্রিল রেজাল্ট হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ফরম পূরণে তারিখ দেওয়া হয়নি। আমাদের এখন কি করা উচিত? অনেক দিন তো হয়ে গেল! মাঝে আছে আজকের দিন আর রোববার।’

কোনো রকম নোটিস বা ফরম পূরণের নির্দেশনা পাননি জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘ডিন স্যার বলেছিলেন, দুই-একদিনের মধ্যে ফর্ম পূরণের কার্যক্রম চালু হবে। ফলাফল দেওয়ার পর আট দিন পার হয়ে গেল, কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’

অধ্যক্ষগণ পেয়েছেন নির্দেশনা

ওয়েবসাইড খুলে দেওয়া এবং ফরম পূরণ সংক্রান্ত নোটিসের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিন বলেন, ‘নোটিস দেওয়া হবে না। এটা নোটিসের বিষয়ও না। যেসব মেডিকেলের অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, আমি তাঁদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের যদি কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সম্যার সমাধান করে দেবো।’

কলেজ কর্তৃপক্ষকে কি কি নির্দেশনা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ সেশনের যারা পরীক্ষা দেবে, ওই সেশনের আরও যারা ক্লিয়ারেন্স পাবে—অর্থাৎ যদি কোনো শিক্ষার্থীর ব্লক পোস্টিং, পারসেন্টেজ, আইটেম ক্লিয়ার থাকে, সে ক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে কোনো বাধা নাই। 

‘তবে যাদের পারসেন্টেজসহ অন্যান্য ঘাটতি আছে তারা কলেজ থেকে ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় হয় তো ঝামেলা হয়েছে। তারা হয় তো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পরীক্ষায় বসার চেষ্টা করছে’—যোগ করেন ডিন।

গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত ৪২টি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে মার্চের ১০ তারিখ শেষ হয়েছিল এ পরীক্ষা। করোনা পরিস্থিতে কয়েকবার পেছানোর পর অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার ফলাফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাবি মেডিসিন অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহরিয়ার নবী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আরও আগেই দিতে পারতাম। কিন্তু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস বন্ধ থাকায় দেরি হচ্ছিল। বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রকের অফিস খুলে ফলাফলের ব্যবস্থা করেছি।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি