ঢাবির ১৮-১৯ সেশনের ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা যথাসময়ে
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০১৮-১৯ সেশনের ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহরিয়ার নবী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাদের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কো-অর্ডিনেটরগণের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানান, আগের দুই ব্যাচের মতো করোনার সময়ের অনলাইন ক্লাস সমন্বয় করে তাদের পরীক্ষা এগিয়ে আনা হবে না।
গত এক আগস্ট রাতে মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।
ডা. শাহরিয়ার নবী বলেন, ‘করোনার মধ্যে ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের ক্লাস প্রায় এক বছর লস হয়েছে। শারীরিক উপস্থিতির পাশাপাশি তাদের অনলাইনের ক্লাসগুলো সমন্বয় করে দেড় বছর গণ্য হবে। ওদের শিক্ষাক্রমের মেয়াদ কমানো হয়নি। মূলত করোনার ক্ষতি পোষানোর লক্ষ্যেই অনলাইনের ক্লাসগুলো সমন্বয় করা হয়েছে। তবে ১৮-১৯ সেশনের বেলায় তা করা হবে না। তাদের ফাইনাল প্রফ যথাসময়ে অর্থাৎ ২০২৪ সালের নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে।’
২০১৮-১৯ এর শিক্ষার্থীরাও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্যও অনলাইন ক্লাসের ছয় মাস গণ্য করে শিক্ষাক্রমের সময়সীমা কমানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের বেলায় এটা প্রযোজ্য হবে না। তাদের পরীক্ষা ২০২৪ এর নভেম্বরেই নেওয়া চেষ্টা চলবে। এ নিয়ে আলোচনা চলমান আছে। তাদের কেউ কেউ যদিও আগামী মে মাসে পরীক্ষায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের কোর্স কো-অর্ডিনেটরগণ এটা সমর্থন করছেন না। বিষয়টি তারা ইতিমধ্যে আমাকে জানিয়েছেনও। কারণ মে মাসে তাদের মাত্র এক বছর পূর্ণ হবে। ফলে আগের সেশনের মতো তাদের বেলায় এটা করা সম্ভব না।’
এদিকে শিক্ষাক্রমের সময়সীমা কমানো হলে হঠাৎ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ না করে পূর্বেই এ ব্যাপারে নোটিস দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, হঠাৎ রুটিন প্রকাশ করা হলে তাদের পড়াশোনায় ব্যাপক শূন্যতা থেকে যায়।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফাইনাল প্রফের একজন শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা পঞ্চম বর্ষের ক্লাস শুরু করলাম। নিয়মিত ক্লাস হলে স্বাভাবিকভাবে আমাদের চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা ২০২৪ সালের নভেম্বরের অনুষ্ঠিত হবে। আগের দুই সেশনের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাক্রমের পুরো দুই বছর পাননি। এক বছর বা এক বছর দুই মাসের মতো সময় পেয়েছেন। এতে তাদের পড়াশোনায় ব্যাপক শূন্যতা রয়ে গেছে। ওয়ার্ড বা ব্লক পোস্টিংগুলো খুব ভালো করে পড়ার সুযোগ পাননি। সুতরাং গত দুইবারের ধারাবাহিকতায় আমাদের বেলায়ও যদি এমন হয় যে, এক বছরের ব্যবধানে প্রফ নেওয়া হবে। তাহলে যেন আগে থেকে আমাদের জানানো হয়। যেন এক বছরে সমানভাবে সব কিছু পাই। এমন যেন না হয় যে, আমরা মেডিসিন পেলাম, সার্জারি পেলাম না। এক গ্রুপ গাইনি পেল, অন্য গ্রুপ মেডিসিন পেল না।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগে থেকে অবগত না হওয়ায় গত দুই প্রফের শিক্ষার্থীরা পূর্ব থেকে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারেননি। প্রফ এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি আগে থেকে জানলে সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।’
ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংকট ঘোচাতে ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা আগানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন যারা ফাইনাল প্রফ দিচ্ছেন, তারা আগামী ২৩ এর অক্টোবর ইন্টার্নশিপে যুক্ত হবেন। আর আগামী বছরের ২৪ অক্টোবর তাদের এক বছরের ইন্টার্নশিপ শেষ হবে। আমরা যদি নিয়মিত হিসেবে ফাইনাল প্রফ ২০২৪ এর নভেম্বরে দিই, সে ক্ষেত্রে আমাদের ইন্টার্নশিপ শুরু হবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে। তাহলে ২৪ অক্টোবর থেকে পরের বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত ৫-৬ ছয় মাস যে ইন্টার্ন সংকট দেখা দেবে, পেরিফেরির মেডিকেলগুলোর এই সংকট কাটিয়ে উঠতেই মূলত প্রফ পরীক্ষাগুলো আগানো হয়, অর্থাৎ নভেম্বরের জায়গায় মে-জুনে পরীক্ষা হয়ে যায়। সুতরাং একটি সুবিধার কথা বিবেচনা করে যেন আরেকটি অসুবিধার সৃষ্টি না করা হয়।’
‘পরীক্ষা যখনই অনুষ্ঠিত হয়, এটা যেন ডিন স্যারের কার্যালয় থেকে যৌক্তিক সময় আগে কলেজগুলোকে জানানো হয়, এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন’, যোগ করেন তিনি।