০৫ মে, ২০২১ ০৪:০২ পিএম

দেশে টিকা সংকটের আশঙ্কা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশে টিকা সংকটের আশঙ্কা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ ডোজ টিকার ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে টিকা না আসলে দেশে টিকা সংকট সৃষ্টি হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

আজ বুধবার (৫ মে) দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এ পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৭ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩১ লাখ ৬ হাজার ৭০৯ জন। দুই ডোজ মিলিয়ে মোট ৮৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৬ ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। টিকার বর্তমান মজুতের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ ডোজের সংকট রয়েছে।

দেশে টিকা সংকটের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘টিকা সংকটে গত ২৬ এপ্রিল থেকে দেশে প্রথম ডোজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বাকি আছেন ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৮ জন। দেশে এখন মজুত টিকা আছে ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩৪ জনের। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণের অনিশ্চয়তায় পরেছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ মানুষ।’

খুব শীগ্রই দেশে টিকা আসবে জানিয়ে ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের পূর্বেই চীন থেকে টিকা আসার সুযোগ আছে। আমরা আশা করছি সেটি খুবদ্রুতই আমাদের কাছে পৌঁছাবে। এই টিকা ছাড়াও রাশিয়ার যে স্পুটনিক টিকা বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে আলোচনা চলছে, সেটি দেশে আনতে ছাড়পত্র প্রয়োজন, যা বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অবস্থান করছে। আমরা আশা করছি দ্রুত গতিতেই ছাড়পত্র পেলে রাশিয়ার টিকা আনতে সক্ষম হবো।

‘আমাদের বাংলাদেশের রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালস নামক একটি কোম্পানি মর্ডানার টিকা আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এটি নিয়েও তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা বিদ্যমান আছে। এছাড়াও দেশে তিনটি ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানি ইতিমধ্যে সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে তারা বাংলাদেশি টিকা উৎপাদন করতে চায়। তারা এটি নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সক্ষমতাও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যে দেখা হয়েছে। এই তিনটি কোম্পানি সারাদেশে প্রায় এক বছরে দেড় কোটি ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে’, যোগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র।

এ সময় দেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা সংক্রমণের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। বিগত সাত দিনে পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে ভালো। একটা সময় ছিল যখন প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজারের বেশি করোনা শনাক্ত হতো। কিন্ত গত সাত দিনে এখন শনাক্তের হার প্রায় ৮.৭১ ভাগে চলে এসেছে। এভাবেই সংক্রমণ যেন নিচের দিকে চলে আসে এবং এটা যেন অব্যাহত থাকে এজন্য আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।’

এ অবস্থায় জনসাধারণকে চলাচল সীমিত করতে হবে। অবস্থা যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি, তাহলে সংক্রমণের হার আবারও যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি সকলকে মানতে হবে বলেও জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক