১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৭:১৯ পিএম

পরিবহন সংকট: বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের যাতায়াতে ভোগান্তি

পরিবহন সংকট: বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের যাতায়াতে ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনায় কঠোর লকডাউনের মধ্যে পরিবহন সংকটের কারণে কর্মস্থলে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা। তারা বলেন, নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় যাতায়াতে সীমাহীন ধকল পোহাতে হচ্ছে তাদের। অন্য দিকে রাত্রি বেলায় বাসায় ফিরতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে নারী চিকিৎসকদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকিতে।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউর ফেজ-‘বি’র একজন রেসিডেন্ট মেডিভয়েসকে বলেন, চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ থাকে শাহবাগ থেকে বেশ দূরে। কেউ যাত্রাবাড়ী, কেউ মিরপুর, কেউবা আবার উত্তরায় অবস্থান করছেন। লকডাউনের কারণে রিকশা বন্ধ, সিএনজি বন্ধ; তাহলে তারা আসবেন কিভাবে? বর্তমানের সবার চাওয়া হলো, রাস্তায় পুলিশের হয়রানি যেন বন্ধ হয়। কিন্তু এর চেয়ে বড় সমস্যা হলো, পরিবহন। এটা থাকলেই তো রাস্তায় আটকানোর প্রশ্ন আসবে। চিকিৎসকদের অনেকেই নিজস্ব পরিবহনে যাওয়া-আসা করতে চান। কিন্তু পুলিশ তাদের কাছে জানতে চান, প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে কেন যাওয়া-আসা করছেন না?

পরিবহনের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে চিকিৎসকরা ডিউটি করতে পারবেন। এটি নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক চিকিৎসক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রোস্টারে নাম থাকছে, কিন্তু ডিউটিতে যেতে পারছেন না। ফলে ওয়ার্ড ফাঁকা থাকছে। রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্টক চিকিৎসকও ঝামেলায় পড়ছেন।’

পুলিশের মুভমেন্ট পাসের ঝামেলা এড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএমএমইউ থেকে জরুরি আইডি কার্ড প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তায় থামিয়ে দেওয়া হলে পুলিশকে দেখানোর জন্য পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এর কোনো কার্যকারিতাই থাকবে না, যদি নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকে।’  

নিরাপত্তাহীনতায় নারী চিকিৎসকরা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, আজ  (১৮ এপ্রিল) ডিউটি করতে গিয়ে তিনি অনেক্ষণ হাঁটার পর রিকশা পেয়েছেন। কিছুক্ষণ পথ চলার পর এক পর্যায়ে পুলিশ তাঁর রিকশা থামিয়ে দেয় এবং রিকশা চালককে চড়-থাপ্পর দেয়। পরে পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে রওয়ানা দেন তিনি। এভাবে অনেক ভোগান্তির পর কর্মস্থলে পৌঁছান ওই চিকিৎসক। রাত নয়টার তার ডিউটি সম্পন্ন হবে। লকডাউনের কারণে নিজস্ব পরিবহন না থাকায় বাসায় পৌঁছানো তাঁর জন্য ব্যাপক চ্যালেঞ্জের।

এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক মেডিকেল কলেজ এই দুঃসময়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সকল রুটে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজেও এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাহলে বিএসএমএমইউ কেন করছে না?

না পেতে পেতে চাওয়াই ভুলে গেছে চিকিৎসকরা

ফেজ-‘বি’র আরেকজন রেসিডেন্ট চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, বিএসএমএমইউতে শতাধিক বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগে প্রতিদিন হাজার খানেক চিকিৎসকের আনাগোনা। এতো ব্যাপক সংখ্য চিকিৎসক আসছেন এবং তাঁদের কল্যাণেই হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত আছে। গত বছর লকডাউনের সময় এই চিকিৎসকদের আনা-নেওয়ার জন্য আলাদা করে পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই বছর এখনো তা করা হয়নি। কিন্তু কারও কোনো আওয়াজ নাই। আসলে চিকিৎসকরা না পেতে পেতে চাওয়াই ভুলে গেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে সামনের সময়টা মাথায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নাই। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি আইডি কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। এই আইডি কার্ড যখন পুলিশকে দেখানো হয়, তখন তারা জানতে চান, আপনাকে কার্ড দেওয়া হয়েছে তাহলে গাড়ি দেওয়া হচ্ছে না কেন?’

স্বাস্থ্য সেবায় জড়িত মানুষগুলো এতো দরিদ্র—এটা বলতে লজ্জা লাগে বলেও উল্লেখ করেন এ রেসিডেন্ট।

বিএসএমএমইউর ভাষ্য

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের গাড়ি অত্যন্ত স্বল্প। এর মাধ্যমেই আমরা করোনা ইউনিটে যারা ডিউটি করছে, শুধু তাদেরই সুবিধা দিতে পারছি আপাতত। এ ছাড়া আমাদের হাসপাতালে যারা দায়িত্বরত আছে, তাদের তিনবেলা আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিবহন শাখার সমন্বয় করে সমাধান করা হবে। যারা এ রকম সংকটে আছেন তারা আমার কাছে লিখিত আবেদন করলেই সমাধান হয়ে যাবে।’

এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু জানিই না। কারও যে এ ধরনের অসুবিধা হচ্ছে—এটা দুর্ভাগ্যবশত প্রথম সাংবাদিকের কাছ থেকে শুনলাম। আমার চিকিৎসক তো আমাকে জানাবেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। তথ্য পেয়েছি, আমরা সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

করোনার এ সময়ে নিজেদের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আইডির ব্যবস্থা করেছি। সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করেছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এখন তাদের আটকাবে না। সুতরাং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছি।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি