ডা. রুমি আহমেদ
সাবেক ছাত্র, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ;
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।
১১ এপ্রিল, ২০২১ ১২:২৫ পিএম
‘দেশে কি এখন ফিল্ড হাসপাতাল খোলার সময় হয়নি’
বাংলাদেশে কি এখন কয়েকটা ফিল্ড হাসপাতাল খোলার সময় হয়নি? গত বছর যেভাবে খোলা হয়েছিল বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে। এই হাসপাতাল গুলোতে দরকার হয়, চারটা জিনিস - মাথার উপর ছাদ, জনপ্রতি একটা বিছানা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপ্লাই আর প্রেডনিসোলোন ট্যাবলেট।
বাংলাদেশ সরকারের একটা কোভিড টাস্ক ফোর্স আছে। তারা কি এখন ও বিদ্যমান আছেন? সেখান থেকে একটা নিৰ্দেশনা কি আসতে পারেনা যে, ‘কোভিড টেস্ট পজিটিভ হলেই মুড়িমুড়কির মতো সিটি স্ক্যান চেষ্ট, সিআরপি, ফেরিটিন ও ডিডাইমার ইত্যাদি ব্লাড টেস্ট করার কোনো দরকার না।’
কে বলবেন, ‘কোভিড নেগেটিভ হলো কিনা দেখার জন্য টেস্ট করে টেস্ট কিট নষ্ট করার দরকার নাই।’
আমাদের মুরুব্বি চিকিৎসক কেউ কি নাই যে, ‘একটু জোর গলায় বলতে পারেন কোভিড পজিটিভ হলেই সবাইকে লম্বা একটা ঔষুধের ফর্দ লিখে দেওয়ার দরকার নাই।’ কেউ কি এ কথাগুলো মাইক নিয়ে একটু বলবেন, কোভিডে মোনাস, ফেক্সো, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি, সি, এজিথ্রোমাইসিবি বা ডক্সিসাইক্লিন, স্ক্যাবো, আভিগান, ক্ল্যাকসেন ও রিভোকসিরিবান ইত্যাদি ঔষধগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। এর মধ্যে কিছু কিছু ঔষধ বেশ ক্ষতিকরও হতে পারে? হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়া ক্ল্যাকসেন অপ্রয়োজনীয় ও রিস্ক।
আমাদের কি এই পাবলিক হেলথ সার্ভিসটা দেওয়ার একজন ও লোক নেই যে, বলতে পারবেন যে কোভিডে একটি ঔষধ-ই প্রয়োজন হয় এবং তা কাজ করে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪% এর নিচে নেমে গেলে! এর আগে না এবং এই ঔষধটি হচ্ছে প্রেডনিসোলোন বা ডেক্সামেথাসোন। এর বাইরে আর কোন কার্যকরী ঔষধ নেই। বাকি লম্বা ঔষধের ফর্দ লিখে আপনার শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি করা হচ্ছে।
প্রশ্ন করার কি কেউ নেই, ‘কোন বিবেকে যুক্তিতে টেস্ট ইত্যাদি না করে রোগীকে এলটিপ্লেজ নামের ভয়ঙ্কর রিস্কি ওষুধ দেওয়া হয়? মেরোপেনেম টাইপের এন্টিবায়োটিক আমাদের লাস্ট রিসোর্ট - লাস্ট এন্টিবায়োটিক! আর সব এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেলে খুব সিলেকটিভ কেইসে এটা ইউজ করার কথা।’ এটার রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ হয়ে গেলে রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের হাতে আর কোন অস্ত্র থাকবে না। ‘রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে না হতেই কেন গণহারে মেরোপেনেম শুরু করে দিতে হবে? টোসিলিজুম্যাব দামি ওষুধ - খুব সিলেক্ট কেইসে এক ডোজ বা খুব বেশি হলে দু’ডোজ দেয়া যায় অল্প কিছু রোগীকে কিন্তু ডেইলি টোসিলিজুম্যাব- এই বিজ্ঞানের আবিষ্কার কোথায় এবং কবে হলো।’
Esbriet আর ofev - এই দুটো নতুন ওষুধ - একটা বিশেষ টাইপের লাঙ ফাইব্রোসিসের পেশেন্টের জন্য! আমরা ছ’মাস ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবং এটা নিশ্চিত করে যে, এটা অন্য কিছু না বা অন্য ধরনের ফাইব্রোসিস না। আমরা এ ওষুধটা শুরু করার পর প্রতি দু সপ্তাহ পর পর রক্ত পরীক্ষা করি অন্তত দু’বছর - কারণ এই ওষুধে লিভার ড্যামেজ হতে পারে। ‘আমি এখন দেখছি অনেক রোগীকে ক্যাজুয়ালি এই ঔষধ টা প্রেস্ক্রাইব করা হচ্ছে কোভিড ডায়াগনোসিস হলেই!’
একথা বলার কি কেউ নেই কোভিডের ৯০ % এর বেশি রোগীর কোন সিমটম হবে নাও কোন ঔষধ লাগবে না।
কে বলবেন, ‘কোভিড প্রতিরোধে শুধু লাগবে ডাবল মাস্ক পড়া নাক মুখ ঢেকে আর ইনডোর গ্যাদারিং পরিহার করা।’
প্রতিদিনই একজন দুজন করে পরিচিত মানুষ মারা যাচ্ছেন।
-
০৫ মে, ২০২৬
-
০৭ অগাস্ট, ২০২১
-
১১ এপ্রিল, ২০২১