অল্প বয়সীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস
দুবাইয়ের জার্নালে প্রকাশে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের গবেষণাপত্র মনোনীত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুবাই ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রাইনোলজি (ডিডিই) জার্নালে ‘অল্প বয়সে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস রোগ হয়, তাদের বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি’ শীর্ষক বাংলাদেশি চিকিৎসকদের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে।
সম্প্রতি ডিডিই জার্নালের (DDE-2020-12-4/R1 RESUBMISSION) সংস্করণে এটি প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে বলে এক ই-মেইলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গবেষক দলের প্রধান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ আজ শনিবার (১৩ মার্চ) রাতে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘একটি গবেষণা প্রকাশের জন্য গৃহীত হওয়াটা বড় সাফল্য। গৃহীত হওয়া মানে—এটা অনিবার্য যে, ডিডিইর আগত যে কোনো সংখ্যায় এটি প্রকাশ হবে। এর আগে আমাদের গবেষণা বিশ্বব্যাপী প্রেস্টিজিয়াস মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। করোনা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র গবেষেণা হিসেবে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির জার্নালে আমাদের বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল বিএমজে ওপেনে প্রকাশিত হয়েছে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ নিয়ে আমাদের একটি গবেষণা।’
গবেষণায় আন্তরিক সহযোগিতার জন্য দলের সদস্যদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘গবেষক দলের প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রকাশ না হলে গবেষণাকর্ম পূর্ণতা পায় না। প্রকাশনার কাজে গবেষক দলের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য সহকারে লেগে ছিলেন, সফল হয়েছেন। সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও সবিশেষ কৃতজ্ঞতা।’
গবেষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) অর্থায়ন করার কথা জানিয়ে অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, এ গবেষণায় ‘অল্প বয়সে’ বলতে ৪০ বছর বয়সের আগে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস হয়েছে তাদেরকে বিবেচনা করা হয়েছে।
এর প্রধান দুটি ফল নিম্নরূপ:
১. গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় এক তৃতীয়াংশের ৪০ বছর বয়সের আগে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস হয়েছে।
২. যাদের ৪০ বছর বয়সের আগে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস হয়েছে, তাদের বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, যাদের ৪০ বছর বয়সের পরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস হয়েছে তাদের চেয়ে শতকরা সাতান্ন ভাগ (৫৭/%) বেশি; (OR 1.57; 95% CI 1.13 - 2.28; p=0.011).
এই গবেষণা কর্মে সহ-গবেষক হিসেবে আছেন গবেষণাঅন্তপ্রাণ খ্যাতিমান চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহজাদা সেলিম, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে মনাশ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং প্রিভেনটিভ মেডিসিনের মেগান নিও এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন নার্সিং এবং স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের মো. নাজমুল করিম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিসের কর্মকর্তা এম মোস্তফা জামান।